


নিজস্ব প্রতিনিধি, পাঁশকুড়া: পাঁশকুড়া পশ্চিম আসনে বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সিন্টু সেনাপতির বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী হলেন দলেরই প্রবীণ নেতা নারায়ণকিঙ্কর মিশ্র। গত ২ফেব্রুয়ারি সিন্টুর বিরুদ্ধে ৯১লক্ষ ৬৫হাজার ৬২৩টাকা প্রতারণার অভিযোগে থানায় এফআইআর করেছিলেন ৭৪বছর বয়সি নারায়ণকিঙ্করবাবু। তাছাড়া, প্রবীণ ওই নেতা ২০০১, ২০১১ ও ২০১৬সালে তিনবার কোলাঘাট ও পাঁশকুড়া বিধানসভা থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। নানা সময়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করে সিন্টু ৯১লক্ষ টাকা নিয়েছেন বলে ওই নেতার অভিযোগ। এব্যাপারে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকেও লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন নারায়ণকিঙ্করবাবু। দল এনিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। বরং সিন্টুকে পাঁশকুড়া পশ্চিম থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। এই ঘটনায় বেজায় ক্ষুব্ধ নারায়ণকিঙ্করবাবু ওই আসনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা করেছেন। নির্বাচনি ময়দানে সিন্টুকে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে তাঁর এই সিদ্ধান্ত। এই ঘটনায় পাঁশকুড়া পশ্চিম আসনে অক্সিজেন পাচ্ছে তৃণমূল।
সোমবার প্রথম দফায় মনোনয়নের শেষদিন তমলুকে এসে নারায়ণকিঙ্করবাবু মনোনয়ন জমা করেছেন। পাঁশকুড়া পশ্চিম আসনে তিনি নির্দল প্রার্থী। তিনি পুরনো বিজেপি নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনবার বিধানসভার প্রার্থীও হয়েছেন। নারায়ণকিঙ্করবাবুর বাড়ি পাঁশকুড়া থানার কেদারপুরে গ্রামে। পেশায় রঘুনাথবাড়ি হাইস্কুলে লাইব্রেরিয়ান ছিলেন। একসময় তাঁর বিপুল সম্পত্তি ছিল বলে দাবি। বিভিন্ন সময়ে সিন্টু চাপ দিয়ে টাকা আদায় করেছেন বলে তাঁর অভিযোগ। একসময় তাঁকে সল্টলেক সহ বিভিন্ন জায়গায় আটকে রেখে সিন্টু ও তাঁর দলবল জমিজমা বিক্রি করিয়ে জোরজবরদস্তি করে টাকা হাতিয়েছেন বলে তিনি ২ফেব্রুয়ারি পাঁশকুড়া থানায় এফআইআর করেন। সেইমতো রাজ্য বিজেপির ওই সম্পাদক ও তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। গত ২৪জানুয়ারি এনিয়ে অভিযোগকারী রাজ্য বিজেপির সভাপতিকে চিঠি দেন।সিন্টুর বিরুদ্ধে এফআইআর করার পরও দল কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে নারায়ণকিঙ্করবাবু ক্ষুব্ধ। আদালত থেকে রক্ষাকবচ পেয়েছেন ওই বিজেপি নেতা। এবার তিনি পাঁশকুড়া পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী। তাই ভোটের ময়দানে সিন্টুকে জবাব দিতে চাইছেন প্রবীণ ওই বিজেপি নেতা। সোমবার মনোনয়ন জমা করেছেন। পাঁশকুড়া পশ্চিম আসনে মোট ছ’জন মনোনয়ন জমা করেছেন। তাঁদের মধ্যে নারায়ণকিঙ্করবাবু ও পাঁশকুড়ার মধুসূদনবাড় থেকে শেখ সিরাজউদ্দিন নির্দল হিসেবে মনোনয়ন জমা করেছেন। ২০২১সালে পাঁশকুড়া পশ্চিম আসন থেকে বিজেপি হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাস্ত হন সিন্টু। এবার ফের তাঁকে দল টিকিট দিয়েছে। সিন্টুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ৩৯টি মামলা দায়ের হয়। এরকম এক নেতাকে পার্টি আগলে রাখায় ক্ষুব্ধ ওই আদি বিজেপি নেতা ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন। এব্যাপারে সিন্টু বলেন, পুরো অভিযোগ মিথ্যা। ভোটের মুখে আমার ইমেজ খারাপ করতে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেটা সকলেই জানেন। নারায়ণকিঙ্কর মিশ্র নির্দল প্রার্থী হয়েও বিজেপির কোনও ক্ষতি করতে পারবে না। আমি এই আসনে জয় নিয়ে একশো শতাংশ আশাবাদী। নারায়ণকিঙ্করবাবু বলেন, আমার তিলে তিলে জমানো সর্বস্ব নিয়ে নিয়েছে সিন্টু। দলের কাছে অভিযোগ করেছি। থানায় এফআইআর করেছি। কিন্তু, সুরাহা পাইনি। তাই নির্বাচনি ময়দানে নেমে এর মোকাবিলা করব বলে ঠিক করেছি। আশাকরি, পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভার মানুষের সমর্থন পাব।