নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রেজিস্ট্রি অফিসে মরা মানুষও জীবিত! মৃত ব্যক্তি বেহালা এডিএসআর অফিসে এসে সই করলেন, ফিঙ্গার প্রিন্ট দিলেন। ছবিও তুললেন। জমির মালিক যে সই করেছেন, তা নিশ্চিত হয়ে সইও করলেন রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত অফিসার। সেই সুবাদে হাতবদল হয়ে যায় জমির। কিছু দিন পর আসল মালিক এক ব্যবসায়ীকে ওই জমি বিক্রির পর রেজিস্ট্রি করতে এসে জানতে পারলেন, ‘বাবা’ আগেই জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। দালাল চক্রের হাতযশে তাঁর মৃত বাবা হয়ে উঠেছেন জীবিত। রবীন্দ্রনগর থানায় অভিযোগ জানালে, জালিয়াতি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ঋতুরাজ সেনগুপ্ত নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই রেজিস্ট্রি অফিসকে চিঠি পাঠিয়ে জমা দেওয়া আধারের কপি, ফিঙ্গার প্রিন্টের নমুনা, কোন অফিসার সই করেছিলেন, তাঁর নাম সহ বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে পুলিস।
পুলিস সূত্রে জানা যাচ্ছে, রবীন্দ্রনগর এলাকায় সাড়ে তিনকাঠা জমির মালিক শঙ্করনাথ ঘোষ ২০০০ সালে মারা যান। নিয়ম অনুযায়ী তাঁর ছেলে সৌমিত্র এই জমির মালিক হন। ২০২৩ সালে সৌমিত্র বাবার জমি ব্যবসায়ী ইদ্রিশ আলিকে বিক্রি করেন প্রায় ৩০ লক্ষ টাকায়। অগ্রিমও নেন। জমি রেজিস্ট্রি করতে এসে সৌমিত্র জানতে পারেন, তাঁর বাবা ২০২২ সালে বিক্রি করে দিয়েছেন। যা শুনে আকাশ থেকে পড়েন সৌমিত্র। বাবা তো ২০০০ সালে মারা গিয়েছেন। তাহলে বাবা সেজে কে রেজিস্ট্রি অফিসে গেল? ওই ব্যবসায়ী ও সৌমিত্রবাবু রবীন্দ্রনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিস জালিয়াতি প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে।
তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, জমি-বাড়ি কেনাবেচায় দালালি করে ঋতুরাজ নামে এক যুবক এই ঘটনায় জড়িত। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই উঠে আসে আসল কাহিনি। শঙ্করবাবু সাজিয়ে এক ব্যক্তিকে সে রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে যায়। ওই ব্যক্তি শঙ্কর সেজে ছবি তোলেন, আঙুলের ছাপ দেন এবং সই করেন। অফিসের এক কর্মী তাঁকে চিহ্নিত করেন। রেজিস্ট্রি অফিসে পরিচিত থাকায় জালিয়াতি করা সম্ভব হয়েছিল। এরপর এই জমি ঋতুরাজ অন্য এক ব্যক্তিকে বিক্রি করে। তদন্তে উঠে এসেছে রেজিস্ট্রি অফিসের মধ্যে একটা চক্র কাজ করছে। তাদের খোঁজ করছে পুলিস।