নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বর্ষায় জল জমে এলাকা প্রায় পুকুর। কাউন্সিলারের কাছে সমস্যা সমাধানের জন্য গিয়েছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগ, জমা জল সরানোর বিষয়ে কাউন্সিলার উদ্যোগ না নিয়ে বাড়ি বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি বলেছেন, নির্মীয়মাণ ফ্ল্যাট কিনে নেওয়ার কথাও। এরপর রবিবার পানিহাটির ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তবে কাউন্সিলার জল জমার সমস্যার কথা মেনে নিলেও বাড়ি বিক্রি বা ফ্ল্যাট কেনার কথা বলেননি বলে জানিয়েছেন।
বাসিন্দাদের বক্তব্য, পানি মানে যে জল। পানিহাটি মানে যে জলের হাট সে বিষয়টি প্রতিপদে টের পাচ্ছি। সামান্য বৃষ্টি হলেই শহর কার্যত জলবন্দি। এ সমস্যা গত কয়েক বছরে মারাত্মক আকার নিয়েছে। কারণ শহরের ড্রেনেজ সিস্টেম বা নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল। সিংহভাগ ড্রেন বহুবছর ধরে সংস্কারই করা হয়নি। উল্টে চলতি বছর সে কাজ শুরু হল বর্ষার সময়। ফলে নর্দমা থেকে তোলা মাটি ও আবর্জনা ফের বর্ষার জলে ভেসে ওই ড্রেনে গিয়েই ঢুকছে। এ সব দেখে ক্ষোভে ফুঁসছে শহরবাসী।
অভিযোগ, এইচবি টাউন জলমগ্ন। সেখানে ড্রেন ভেসে গিয়েছে। জল সরানোর কাজ হচ্ছে। সেই ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। কারণ ভেসে যাওয়া ড্রেন থেকে পাম্পের মাধ্যমে জল তুলে ফেলা হচ্ছে পাশের একটি জায়গায়। ফলে জল ফের গড়িয়ে চলে আসছে। আদপে কোনও কাজই হচ্ছে না। এভাবে সরকারি টাকার অপচয়ই বা কেন হচ্ছে? এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুলছেন বাসিন্দারা।
২৮ নম্বর ওয়ার্ডের পণ্ডিত সারদা বন্দ্যোপাধ্যায় রোড এলাকাও জলমগ্ন। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ভুগছে মানুষ। নিচু বাড়িগুলির অন্দরমহলে জল ঢুকে গিয়েছে। রবিবার ওই জমা জলে দাঁড়িয়েই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সামিল হন এলাকাবাসীরা। মিতালি দত্ত, সুধাংশু ঘোষ নামে দুই বাসিন্দা বলেন, ‘বিস্তীর্ণ এলাকা জলবন্দি। হাজার হাজার পরিবার সমস্যায়। আমরা কাউন্সিলারের কাছে গেলে বলছেন, বাড়ি বেচে দিন। পাশেই ফ্ল্যাট হচ্ছে। ওখানে কম টাকায় ফ্ল্যাট কিনুন। কখনও বলছেন, ওই এলাকা থেকে ভোট পাই না। তাই কাজ করে কি লাভ?’ ‘এখানে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি আগে ছিল না’-বক্তব্য অন্যান্য বাসিন্দাদের।
যদিও কাউন্সিলার কাঞ্চন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চলছে। ওই এলাকা ২২ বিঘা ধানজমি নামে পরিচিত। মানুষ নিজের প্রয়োজনে নিচু এলাকায় বাড়ি করেছেন। ওই ধানমাঠ এলাকার জল বের করার জন্য সাড়ে সাত কোটি টাকা খরচ করে মতুন হাই ড্রেন হবে। কিন্তু জলের কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। আগে রাস্তায় সামান্য আলো ছিল। রাস্তা ছিল না। আমাদের সময় সব হয়েছে। বিরোধীরা চক্রান্ত করে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।’ নিজস্ব চিত্র