Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আয়ের ভরসা স্বনির্ভর গোষ্ঠী, অবস্থা ফিরেছে বহু প্রবীণারই

কেউ সেলাইয়ের মেশিন কিনে জামাকাপড় সেলাই করে জীবন জীবিকা পালন করছেন, কেউ আবার চাষবাস ছেড়ে অন্য ব্যবসা করে আর্থিক হাল ফিরিয়েছেন।

আয়ের ভরসা স্বনির্ভর গোষ্ঠী, অবস্থা ফিরেছে বহু প্রবীণারই
  • ৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কেউ সেলাইয়ের মেশিন কিনে জামাকাপড় সেলাই করে জীবন জীবিকা পালন করছেন, কেউ আবার চাষবাস ছেড়ে অন্য ব্যবসা করে আর্থিক হাল ফিরিয়েছেন। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রবীণারা এভাবেই নতুন করে আয়ের পথ খুঁজে নিয়েছেন। রাজ্যে এমন প্রবীণ মহিলাদের গোষ্ঠীর সংখ্যা সাত হাজারের বেশি। রাজ্যের উদ্যোগেই এই মহিলাদের নিয়ে দল গঠন করা হয়েছে।

Advertisement

পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট ব্লকের বড়িশা গ্রামের বছর পঁয়ষট্টির মঙ্গলা দে এক সময় সংসার চালাতে হিমশিম খেতেন। আর্থিক অনটনের কারণে নতুন করে কোনও কাজ শুরু করার ক্ষমতা ছিল না। অবশেষে কয়েক বছর আগে প্রবীণদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে যোগ দেন মঙ্গলাদেবী। সদস্যা হওয়ার পর তিনি স্বল্প সুদে ৩০ হাজার টাকার ঋণ নিয়ে একটি সেলাই মেশিন কিনে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। এখন তাঁর নিজের সেলাইয়ের দোকান তৈরি হয়েছে। আগ্রহী মহিলাদের কাজও শেখাচ্ছেন তিনি। মঙ্গলাদেবী বলেন, স্বনির্ভর দলে যোগ দেওয়ায় এখন আর্থিক হাল ফিরেছে। একই দাবি করেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর ১ নম্বর ব্লকের অনিমা পুরকাইতও। তিনি চাষাবাদ করতেন। কিন্তু পারিবারিক আয় কম থাকায়, ছেলেদের পড়াশোনা পর্যন্ত করাতে পারেননি। তাই চাষের কাজ ছেড়ে বয়স্কদের দলে যোগ দেন। তারপর ঋণ নিয়ে হস্তশিল্প সামগ্রী তৈরি করে ছোট ব্যবসা শুরু করেছেন। এর ফলে আগের তুলনায় আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে বলে দাবি অনিমাদেবীর। প্রবীণদের জীবিকার কথা মাথায় রেখেই কয়েক বছর আগে বয়স্কদের নিয়ে দল গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছিল পঞ্চায়েত দপ্তর। শুরুতে ভালো সাড়া না পেলেও পরে অনেকেই যোগদান করেন। দপ্তরের দাবি, এখন অনেক গরিব, দুঃস্থ প্রবীণ মহিলা দিব্যি নিজের মতো করে কাজ করছেন। একটা সময় তাঁদের কষ্ট করে দিন কাটত। সেই পরিস্থিতি এখন পাল্টেছে। ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছেন তাঁরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ