নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় শুরু হতে চলেছে জনগণনার প্রথম পর্যায়ের কাজ। তা নিয়েই জেলা জুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে স্ব-গণনা (সেলফ এনিউমারেশন)। এরপর আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করবেন গণনাকারীরা। এই গোটা প্রক্রিয়ায় জেলাজুড়ে প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে মাঠে নামানো হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, জনগণনায় ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিলে রেহাই মিলবে না। প্রতিটি তথ্য বাড়ি গিয়ে ভেরিফিকেশন করা হবে।
চায়ের দোকানে আড্ডায় মেদিনীপুরের বাসিন্দা শংকর পাল বলেন, এসআইআরের পর ফের গণনা। দুটি কাজ একসঙ্গে করলেই সমস্যা অনেকটাই মিটে যেত। প্রশাসনকে সকলেই সহযোগিতা করবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জনগণনা ২০২৭-এর প্রথম পর্যায়ে গৃহতালিকা প্রস্তুতিকরণ ও গৃহগণনার কাজ হবে। ১ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সাধারণ মানুষ চাইলে https://se.census.gov.in পোর্টালে গিয়ে নিজেরাই স্ব-গণনা করতে পারবেন। প্রথমে রাজ্য নির্বাচন, ক্যাপচা পূরণ ও নিবন্ধন করতে হবে। পরিবারের প্রধানের নাম, ১০ সংখ্যার মোবাইল নম্বর এবং প্রয়োজনে ই-মেল আইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। পরে ওটিপি যাচাইয়ের মাধ্যমে লগইন করে জেলা, পিন কোড, এলাকার নাম এবং মানচিত্রে নিজের বাড়ির অবস্থান চিহ্নিত করতে হবে। এরপর গৃহতালিকা ও গৃহগণনার প্রশ্নাবলি পূরণ করে তথ্য যাচাইয়ের পর চূড়ান্তভাবে জমা দিতে হবে। একবার ‘ফাইনাল সাবমিট’ করার পরে আর কোনও তথ্য সংশোধনের সুযোগ থাকবে না। তথ্য জমা দিলেই ‘H’ দিয়ে শুরু হওয়া একটি ১১ সংখ্যার এসই (SE) আইডি তৈরি হবে, যা এসএমএস ও ই-মেলের মাধ্যমে পাঠানো হবে। পরে গণনাকারী বাড়িতে এলে সেই এসই আইডি দেখাতে হবে। আইডি মিলে গেলে অনলাইনে জমা দেওয়া তথ্য যাচাই করে গ্রহণ করা হবে, না মিললে নতুন করে তথ্য সংগ্রহ করবেন গণনাকারীরা।
প্রথম পর্যায়ে মোট ৩৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। পরিবারের সদস্যদের তথ্যের পাশাপাশি বাড়িতে কতটি ঘর রয়েছে, ছাদের ধরন, পানীয় জল, শৌচাগার, যানবাহন-সহ একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এবারই প্রথম এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের দাবি, এর মাধ্যমে জেলার বিস্তৃত সামাজিক ও পরিকাঠামোগত তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে।
পশ্চিম মেদিনীপুরে এই কাজের জন্য ১,৫৫৭ জন সুপারভাইজার দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি কাজের সুবিধার জন্য জেলাকে ১০,৫৬৬টি গণনা ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরাও এই কাজে যুক্ত থাকবেন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে জনগণনার মূল পর্ব শুরু হওয়ার কথা।
জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, গোটা প্রক্রিয়াটি যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। জেলার মানুষকে সহযোগিতার আবেদন জানাচ্ছি। একজন মানুষও যাতে কোনও সমস্যায় না পড়েন, সেই বিষয়েও প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। জনগণনার উদ্দেশ্যেই শুধুমাত্র এই তথ্য সংগ্রহ করা হবে।