


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাতের দিকে একা অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় মহিলাদের অনেক সময় রোমিওদের খপ্পরে পড়তে হয়। বাইক নিয়ে পিছু নেয় তারা। কেউ কেউ আবার ইভটিজারদের পাল্লাতেও পড়েন। এই পরিস্থিতিতে সুরক্ষার বিষয়টি বড়ো হয়ে দাঁড়ায় তাঁদের কাছে। সেই সময় সম্ভ্রম বাঁচানোই মূল লক্ষ্য। এই ধরনের অপরাধের হাত থেকে বাঁচতে এবার কর্মরত মহিলাদের হাতে পেপার স্প্রে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য পুলিশ। যাতে আত্মরক্ষার হাতিয়ার হিসাবে তাঁরা এই স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন। পরবর্তীকালে স্কুল-কলেজের ছাত্রী সহ যে সব মহিলাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বেরতে হয়, তাঁদের হাতেও এই স্প্রে তুলে দেওয়ার ভাবনা রয়েছে পুলিশের। পরিসংখ্যান বলছে, নারী সুরক্ষায় দেশে শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। স্থানীয়স্তরে ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা রাস্তায় শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটলেও তাকে সংগঠিত অপরাধ হিসাবে দেখা হচ্ছে না। মহিলাদের নিরাপত্তায় রাজ্য সামান্যতম ফাঁক রাখতে চায় না। এক্ষেত্রে দেশের কাছে দৃষ্টান্ত তৈরি করতে চাইছে রাজ্য। সেকারণে রাজ্য পুলিশ ঠিক করেছে, জেলায় জেলায় মহিলাদের আত্মরক্ষায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে ক্যারাটের কথা ভাবা হয়েছে। যাতে খালি হাতে মহিলারা অপরাধীদের শায়েস্তা করতে পারেন। এরজন্য প্রতিটি জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় আলাদা আলাদা করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। ছাত্রী থেকে কর্মরতা, এমনকি, গৃহিণীরাও চাইলে দিন পনেরোর এই প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। প্রশিক্ষণের যাবতীয় খরচ বহন করবে রাজ্য পুলিশ। যাতে মহিলারা এই প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী হন, তার জন্য প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে।
রাজ্য পুলিশের কর্তারা ঠিক করেছেন, সুরক্ষা অস্ত্র হিসাবে কর্মরত মহিলাদের হাতে পেপার স্প্রে তুলে দেওয়া হবে। কারণ সিংহভাগ কর্মরত মহিলাকে অনেক রাতে একাই বাড়ি ফিরতে হয়। সেই সময় হামলার মুখোমুখি হলে পেপার স্প্রে ব্যবহার করে আত্মরক্ষা করতে পারবেন। এই ধরনের রাসায়নিকে লংকার ঝাঁঝ থাকে। দশ-পনেরো ফুট দূর থেকে স্প্রে করলেও হামলাকারীদের চোখ জ্বালা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পাশাপাশি সাময়িকভাবে চোখ ও নাক অবশ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে পালানোর পথ পাবে না অপরাধী। জানা গিয়েছে, এই পেপার স্প্রে পুলিশ ডিরেক্টরেট থেকে কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। তারাই জেলাগুলিতে স্প্রে পৌঁছে দেবে। এরজন্য কত খরচ হবে? জানা গিয়েছে, একটা বাজেট তৈরি করা হয়েছে। সেটি নবান্নের কাছে পাঠিয়ে টাকা চাওয়া হবে।