নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় আবাস প্রকল্পের প্রকৃত উপভোক্তা চিহ্নিত করার কাজ রাজনীতি মুক্ত করতে এবার বড়ো পদক্ষেপ করল নবান্ন। অন্যান্য রাজ্যের মতো এরাজ্যে ‘সেলফ সার্ভে’ বা ‘স্ব-সমীক্ষা’ পদ্ধতি চালু করার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। অর্থাৎ, বাড়ি তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন থাকলে আবেদনকারী নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমেই আবেদন জানাতে পারবেন। ফলে বিগত সময়ের মতো রাজনৈতিক রং দেখে উপভোক্তা বাছাইয়ের অভিযোগ ওঠার আর কোনো জায়গাই থাকবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কারণ, প্রকৃত প্রাপকের নাম তালিকাভুক্ত না-হলে, তিনি নিজেই বা এলাকার অন্য কারো সাহায্যে অনলাইন মাধ্যম নিজের আবেদন নিজেই জানাতে পারবেন।
এক্ষেত্রে মোবাইল ফোনে ‘আবাসপ্লাস ২০২৪’ এবং ‘আধারফেস আরডি’ অ্যাপগুলি ডাউনলোড করে আধার যাচাইয়ের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এই আবেদনের ভিত্তিতে সার্ভেয়ার বা সমীক্ষকরা আবেদনকারীর বাড়িতে গিয়ে সরকারিভাবে যাচাই প্রক্রিয়া চালু করবেন। এছাড়া যাঁরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন না, তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপভোক্তা চিহ্নিত করার কাজ করবেন সার্ভেয়াররা। দুই ক্ষেত্রেই নির্ভুল তালিকার লক্ষ্যে ত্রিস্তরীয় যাচাই নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। অন্তত ১০ শতাংশ পরিবারের তথ্য ব্লক বা মহকুমা স্তরের আধিকারিকদের দ্বারা যাচাই করতে হবে। এছাড়া ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ব্লক স্তরের আধিকারিক এবং ২ শতাংশ ক্ষেত্রে জেলা স্তরের আধিকারিকদের পৃথক যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন করে আবাস যোজনার উপভোক্তা তালিকা তৈরির কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। জেলাশাসকদের ৩০ মে পাঠানো সেই চিঠিতে আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এই কাজ শেষ করার পাশপাশি একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
চিঠিতে মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, গ্রামীণ এলাকার বহু যোগ্য পরিবার এখনো পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তার আওতায় আসতে পারেনি। তাই উপভোক্তা নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে। জানা গিয়েছে, এই নির্দেশের পরেই রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তরের তরফে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর পাঠিয়ে জেলাশাসকদের কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সেই ক্ষেত্রে সমীক্ষার কাজ শুধুমাত্র সরকারি আধিকারিকদের দ্বারাই পরিচালিত হবে। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে অন্তত দুটি সমীক্ষক দল গঠন করা হবে, যেখানে গ্রাম পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা থাকবেন। সমীক্ষার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নাম, পদবি, স্বাক্ষর, ই-কেওয়াইসি এবং মুখের বায়োমেট্রিক যাচাই বিশেষ পোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নথিভুক্ত করা হবে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে উপভোক্তা তালিকা নির্দিষ্ট এসওপি মেনে পুনরায় যাচাই হবে এবং জেলাশাসকের অনুমোদনের পর তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠাতে হবে। উপভোক্তা চিহ্নিত করতে সমস্ত ব্যবস্থাপনাও পঞ্চায়েত দপ্তর সেরে ফেলেছে বলেও জানা গিয়েছে। মুখ্যসচিবের নির্দেশ, সমীক্ষার নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা বা নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে গাফিলতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।