সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: হাত তুলে একটা ইশারা!
সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: হাত তুলে একটা ইশারা!
ইডেনে গুজরাতের বিরুদ্ধে বাংলার রনজি ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের শেষে সেটাই হয়ে উঠল ইঙ্গিতবহ। জাতীয় নির্বাচক রুদ্রপ্রতাপ সিং যে কথা বলার জন্য ডাকলেন মহম্মদ সামিকে। উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে সাত উইকেটের পর এদিনের জোড়া ধাক্কা, ডানহাতি পেসার যে ফিট, তা স্পষ্ট। অন্তত সামির ফিটনেস নিয়ে নির্বাচকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অজিত আগরকরের আর কোনও সংশয় থাকার কথা নয়। রুদ্রপ্রতাপ তো রবিবার চাক্ষুসই করলেন তিন স্পেলে ৩৫ বছর বয়সির গনগনে বোলিং। সামিকে জড়িয়ে ধরতে মাঠের মধ্যে ক্রিকেটপ্রেমীর ঢুকে পড়া, প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভক্তদের অপেক্ষা— উন্মাদনার টুকরো টুকরো ছবিও থাকল। তবে কি নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে লাল বল হাতে দেখা যাবে সামিকে? ইডেন ছেড়ে বেরনোর আগে স্বয়ং তিনি বললেন, ‘ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে আমাদের। সেই কথাবার্তাই হল।’ কিন্তু ক্লাবহাউসের বাইরে বসে আধঘণ্টার আলাপচারিতায় ক্রিকেট, ফিটনেস, প্রোটিয়া সিরিজের মতো শব্দগুলো ওঠেনি, বিশ্বাস করা কঠিন। অসম্ভবই!
এই ছন্দে থাকা সামির জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা যতটা উজ্জ্বল, বাংলার অন্তত তিন পয়েন্ট পাওয়া ততটা সহজ দেখাচ্ছে না। প্রকৃতিই বাদ সাধছে। শনিবার পুরো সময় খেলা হয়নি। এদিন একঘণ্টারও বেশি নষ্ট হল আলোর অভাবে। তারপরই নামল তুমুল বৃষ্টি। সোম-মঙ্গলবারও ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস। বাংলার ২৭৯ রানের জবাবে ধুঁকতে থাকা গুজরাতের (১০৭-৭) শেষ তিন উইকেট ফেলার মতো সময় মিলবে তো, দুরুদুরু আশঙ্কা তাই থাকছে। আকাশদীপরা সেজন্যই খোঁজ করছেন ওয়েদার বুলেটিনের। কিন্তু বিশেষ ভরসা মিলছে না।
এদিন সকালে ৩৫ রান যোগ হয় বাংলা ইনিংসে। সুমন্ত গুপ্তের সংগ্রহ ৬৩। গুজরাতের দুই ওপেনারকে ৯ রানের মধ্যেই ফেরান সামি-আকাশ। সেই ধাক্কা আর কাটিয়ে ওঠা যায়নি। দ্বিতীয় স্পেলে দুরন্ত ডেলিভারিতে সামি নেন আরও এক উইকেট। তাঁর বোলিং গড় ১৪-৬-৩৪-২। ক্যাচ না পড়লে নামের পাশে অবশ্য তিনটি শিকার থাকত সামির। এরপর কামব্যাক ম্যাচে টানা ১১ ওভারের ম্যারাথন স্পেলে চার উইকেট নেন শাহবাজ আহমেদ। কাঁধের চোট সারিয়ে এই প্রত্যাবর্তন তারিফযোগ্য। আর একটু খেলা চললেই হয়ত দাঁড়ি পড়ত বিপক্ষ ইনিংসে। সেজন্যই উদ্বেগ, প্রকৃতির জন্য পরে ভুগতে হবে না তো!