কুন্তল পাল, বনগাঁ: রবিবার নদীয়া থেকে ঠাকুরনগরে ঠাকুরবাড়িতে এসেছিলেন নিশিকান্ত বালা। তাঁর ইচ্ছা ছিল হরিচাঁদ মন্দিরে প্রণাম করে কামনা সাগরের জল মাথায় ছিটিয়ে মোদির ভাষণ শুনতে যাবেন। কিন্তু নিরাপত্তার বাড়াবাড়িতে মন্দিরের ত্রিসীমানায় পৌঁছাতে পারলেন না তিনি। ঠাকুরবাড়িতে এসেও কেন মন্দিরে গিয়ে ঠাকুর দর্শন করতে পারবেন না, প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নিশিকান্ত বালা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসবেন, তার জন্য নিরাপত্তা অবশ্যই থাকবে। কিন্তু ভক্তরা কেন মন্দিরে প্রণাম করতে যেতে পারবেন না? এটা দুর্ভাগ্যজনক।
শুধু নিশিকান্ত বালা নন, এদিন প্রধানমন্ত্রীর সভায় নিরাপত্তার বাড়াবাড়িতে ঠাকুরবাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি কোনো ভক্তকে। বড়মা বীণাপানি দেবীর ঘরের সামনে কিংবা হরিচাঁদ মন্দিরে সামনে কোনো ভক্তদের যেতে দেওয়া হয়নি। সেখানে সাংবাদিকদের যেতেও বাধা দেন নিরাপত্তা রক্ষীরা। এমনকি, বড়মার ঘরের সামনে ছবি তুলতেও বাধা দেওয়া হয়। নিরাপত্তা রক্ষীদের দাবি, ঠাকুরবাড়িতে যাওয়া যাবে না। আজ কেন ভক্তরা এসেছেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন নিরাপত্তা রক্ষীদের কেউ কেউ।
মতুয়াদের দাবি, জানুয়ারি মাসে ঠাকুরবাড়িতে এসেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় মন্দিরের দরজা ভক্তদের জন্য খোলা থাকলেও নিরাপত্তার কড়াকড়ি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন শান্তনু ঠাকুর। এবার মতুয়া ভক্তদের মন্দিরে প্রবেশে বাধা দেওয়ায় শান্তনু ঠাকুর নীরব কেন, প্রশ্ন তুলছেন মতুয়ারা। পরিতোষ বিশ্বাস নামে এক ভক্ত বলেন, ঠাকুরবাড়ি সকলের। তাই বলে রাজনীতির যাঁতাকলে ভক্তদের মন্দিরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়াকে মেনে নেওয়া যায় না।
এবিষয়ে মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি মমতা ঠাকুর বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ঠাকুরবাড়িতে এসেছিলেন, তখন মন্দির ঘিরে দেওয়া হয়নি। তাও শান্তনু ঠাকুর আপত্তি জানিয়েছিলেন। এদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে মন্দির ঘিরে ভক্তদের বাধা দেওয়া হল। শান্তনু ঠাকুর মিথ্যুক। মুখে যা বলে করে না।