সন্দীপন দত্ত, কোচবিহার: প্রখর রোদে রাস্তাঘাট জনমানবশূন্য। বেশ কিছুটা দূর থেকে চোখে পড়ল একটা ঝাঁ চকচকে প্রাসাদ। পাকা রাস্তা থেকে নেমে পেভার ব্লক বিছানো রাস্তা শুরু। যে পথ গিয়ে শেষ হয়েছে নগেন রায় ওরফে কোচবিহারের চকচকায় স্বঘোষিত মহারাজা অনন্ত’র বাড়িতে। অবশ্য বাড়ি না বলে প্রাসাদ বলাই ভালো। এপথ ধরতেই এগিয়ে এলেন অনন্ত মহারাজের গুটিকয়েক অনুগামী। মোটরবাইক থামিয়ে জানতে চাওয়া হল কোথা থেকে এসেছেন? কোথায় যাবেন? কার সঙ্গে, কেন দেখা করবেন? হঠাৎ কেন এলেন? ইত্যাদি। এইসব প্রশ্নবাণ সামলে প্রাসাদের সামনে যেতেই এক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান হাঁক দিলেন ‘ইধার আইয়ে পহলে’। শুরু হল দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রশ্নবাণ।
নগেন রায়ের প্রাসাদে দু’টো গেট। সুসজ্জিত প্রধান গেটে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত দু’টো সিমেন্টের তৈরি হাতির মূর্তি। প্রাসাদের চারপাশে এক মানুষের বেশি উচ্চতার দেওয়াল। প্রাচীরের ভিতরে বাইরে রয়েছে উচ্চ বাতিস্তম্ভ। পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরায় মোড়া। প্রধান ফটকের ভিতর একজন নিরাপত্তারক্ষী। গেটের বাইরে, একপাশে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের থাকার জন্য একটি আস্তানা। প্রশ্নের উত্তরে নিজের পরিচয় দেওয়ায় পর এক নিরাপত্তারক্ষী বাংলায় জানান, মহারাজ এখানে নেই।
নগেন রায়ের অনুপস্থিতিতেই যদি এত কড়াকড়ি হয়, তাহলে তিনি এখানে থাকলে কি হয় তা সহজেই অনুমেয়! প্রশ্ন শুনে স্থানীয় মাঝবয়সী বসন্ত অধিকারী বলে উঠলেন, তিনি খুব ভালো মানুষ। তিনি আমাদের মতোই সাধারণ মানুষ। তিনি নেই। তাই এই এলাকা এখন ফাঁকা রয়েছে। মহারাজ থাকলে এই রাস্তা বন্ধ থাকে।
এদিকে, ফরওয়ার্ড ব্লকের কোচবিহার জেলা কমিটি ১৫ থানায় আগেই অনন্ত মহারাজের নামে একটি করে অভিযোগ দায়ের করেছে। বৃহস্পতিবার তারা কোতোয়ালি থানায় নতুন করে আরও তিনটি এফআইআর করে। • অনন্তের ‘প্রাসাদ’। - নিজস্ব চিত্র।