শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের প্রথম সারির নেতাদের সরকারি দেহরক্ষী তুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতা শেখ সুপিয়ান ও আবু তাহেরের নিরাপত্তা আগের মতোই বহাল। নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচন আসন্ন। ভোটের আগে দুই নেতার নিরাপত্তা না তোলায় শুরু হয়েছে বিতর্ক। প্রসঙ্গত ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর আবু তাহের এবং শেখ সুপিয়ান দু’জনেই দলের ভরাডুবির জন্য আইপ্যাক সহ নানা ইস্যুতে তোপ দেগেছিলেন। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরে যাওয়ায় শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশে প্রশ্নও তুলেছিলেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল রেখে সে কাজেরই কি পুরস্কার পাচ্ছেন তাঁরা? রাজনৈতিক মহলে এই নিয়ে জোর জল্পনা চলছে।
নন্দীগ্রাম-১ নম্বর ব্লকের কেন্দামারি-জালপাই পঞ্চায়েতের গোপীমোহনপুর গ্রামে আবু তাহেরের বাড়ি। তিনি নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন। ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় চিল্লগ্রামে বিজেপি কর্মী দেবব্রত মাইতি খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁর বাড়িতে জেলা পুলিশের এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর ও চার কনস্টেবল হাউস গার্ড হিসেবে থাকেন। ভোটে পালাবদলের পরও হাউস গার্ড বহাল আছে। অন্যদিকে চারবারের বিধায়ক এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র সহ জেলার তৃণমূলের প্রায় সব প্রাক্তন বিধায়ক এবং জেলা সভাপতি সুজিত রায়ের দেহরক্ষী তুলে নেওয়া হয়েছে। সৌমেনবাবুর বাড়ি থেকে হাউস গার্ডও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সুপিয়ান ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে বিধানসভা ভোটে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইলেকশন এজেন্ট ছিলেন। তাঁকে তিন দেহরক্ষী দিয়ে রেখেছে পুলিশ। পালাবদলের পরও তাঁর নিরাপত্তার পরিবর্তন হয়নি। এখনও জেলা পুলিশের তিন নিরাপত্তারক্ষী তাঁর সঙ্গে থাকে। ভোট পরবর্তী হিংসায় দেবব্রত মাইতি খুনের কেসে শেখ সুপিয়ান অভিযুক্ত। তিনি সুপ্রিম কোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন।
সামনেই নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচন। কোন সমীকরণে ওই নেতাদের নিরাপত্তা অটুট তা নিয়ে স্থানীয়স্তরে চর্চা চলছে। বিজেপি এই উপনির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ইতিমধ্যে কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীকে মাথায় রেখে পাঁচ বিধায়ককে পাঁচটি মণ্ডলের দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তারা রেকর্ড মার্জিনে জিততে চায়। সেই লক্ষ্যপূরণে তৃণমূল নেতাদেরও কি কাছে পেতে চাইছে বিজেপি? এ নিয়েই আলোচনা চলছে সর্বত্র। অনেকের বক্তব্য, এটা বিজেপির কৌশল। তারা তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে সন্দেহ ঢুকিয়ে দিতে চাইছে।
আবু তাহের বলেন, ‘আগের মতোই আমার বাড়িতে এক অফিসার ও চার কনস্টেবল আছে। এবার পার্টির নানা ভুলে ভরাডুবি হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঔদ্ধত্য মানুষ ভালভাবে নেয়নি। আইপ্যাক এই ভরাডুবির জন্য সমানভাবে দায়ী।’ আর সুপিয়ান বলেন, ‘আমার তিনজন সিকিউরিটি আছে। সামনে উপনির্বাচন। সে কথা মাথায় রেখেই সম্ভবত রক্ষী তোলা হয়নি। ২০২১ সালে আমাদের মিরজাফর, গদ্দার শুনতে হয়েছে। এবার আশা করব, আমাদের সম্পর্কে ভুল ধারণা ভাঙবে।’