Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গোষ্ঠীবাজি বরদাস্ত নয়, ২৬-এর ভোটের ফল বিশ্লেষণ করেই পুরসভার টিকিট, দমদমের কর্মিসভায় হুঁশিয়ারি ব্রাত্যর

বিধানসভা ভোটের মুখে কোনো ওয়ার্ডে গোষ্ঠী কোন্দল বরদাস্ত করা হবে না। এই ভোটের ফলাফলের উপর নির্ভর করে আগামী পুরসভা ভোটের টিকিট মিলবে

গোষ্ঠীবাজি বরদাস্ত নয়, ২৬-এর ভোটের ফল বিশ্লেষণ করেই পুরসভার টিকিট, দমদমের কর্মিসভায় হুঁশিয়ারি ব্রাত্যর
  • ৩১ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বিধানসভা ভোটের মুখে কোনো ওয়ার্ডে গোষ্ঠী কোন্দল বরদাস্ত করা হবে না। এই ভোটের ফলাফলের উপর নির্ভর করে আগামী পুরসভা ভোটের টিকিট মিলবে। রবিবার দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মিসভা থেকে স্পষ্টভাবে এই বার্তা দিয়েছেন দমদমের বিধায়ক তথা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তাঁর ওই বক্তব্যের ভিডিয়ো সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভোটের মরশুমে তাঁর এই বক্তব্য সামনে আসায় বিরোধীরা কটাক্ষ করতে ছড়েনি। তারা বলছে, পরাজয়ের আশঙ্কায় দলের নেতা-কর্মীদেরই  হুমকি দিতে হচ্ছে তৃণমূলকে। রবিবার দমদম পুরসভার ১, ৩, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের কর্মিসভা হয়। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠকল ভারতী ভবনের কর্মিসভায় ব্রাত্য বসু ছাড়াও হাজির ছিলেন শহর তৃণমূল সভাপতি (দমদম বিধানসভা এলাকা) সুকান্ত সেনশর্মা, তৃণমূল নেতা প্রবীর পাল, কাউন্সিলার সুরজিৎ রায়চৌধুরী প্রমুখ। গত লোকসভা ভোটে এই ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রায় ২০৭ ভোটে পিছিয়ে ছিল। স্থানীয় কাউন্সিলার গোপা পাণ্ডে চলতি বছরে পদত্যাগ করেছেন। ফলে ওয়ার্ডে বর্তমানে কোনো কাউন্সিলার নেই। ভিড়ে ঠাসা সভায় প্রবীর পাল বলেন, ‘এত কর্মী এখানে হাজির হয়েছেন। তারপরও কেন আমরা এই ওয়ার্ডে হারলাম? সবাই একসঙ্গে কাজ করলে এমন ফলাফল হতে পারে না।’ এরপর বক্তব্য রাখতে উঠে ব্রাত্য বসু সুর আরও চড়ান। কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কর্মীরা এখানে ছত্রভঙ্গ হয়ে আছেন। বিচ্ছিন্ন হয়ে আছেন। দল অনেকগুলো গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। আমি আমার ভোটে এই গোষ্ঠীবাজি মানব না।’ এখানেই থেমে না থেকে তাঁর সতর্কবার্তা, ‘২০২৭ সালের পুরভোটের টিকিট দেওয়ার আগে রিপোর্ট কার্ড তৈরি করা হবে। প্রতিটি বুথে কী রেজাল্ট হয়েছে,  তা দেখে দলনেত্রীকে চিঠি লিখব। চিঠিতে জানাব, ২০২৭-এ এখান থেকে কাকে কাকে পুরপ্রতিনিধি করা যেতে পারে।’ তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই দলের অভ্যন্তরেও তীব্র আলোড়ন শুরু হয়েছে বলে খবর। তাঁর এই মন্তব্য প্রসঙ্গে পরে ব্রাত্য বলেন, ‘এটা দলীয় কর্মিসভা। দক্ষিণ দমদমের ৩ নং ওয়ার্ডে এখন কোনো কাউন্সিলার নেই। কর্মীদের একত্রিত করার জন্য আমি ওই কথা বলেছি। তাছাড়া, কর্মিসভায় কী বলেছি, কেন বলেছি, তার এত বেশি ব্যাখ্যা আমি দিতে পারব না। যেটা ভাল মনে হয়েছে, বন্ধ ঘরে কর্মীদের বলেছি।’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, অন্যান্য ভোটের আগেও কাউন্সিলারদের পারফরম্যান্স দেখে টিকিট দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। বুথভিত্তিক ফলাফল দেখে পুরভোটের টিকিট ঠিক করার কথা বলে ব্রাত্য আসলে কর্মীদের ওপর চাপ বজায় রাখতে চেয়েছেন। যদিও বিরোধী সিপিএম ও বিজেপির দাবি, তৃণমূলের মধ্যে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মারাত্মক বিভাজন রয়েছে। সাধারণ মানুষ পাশ থেকে সরছে। ভয়ঙ্কর বিপদ বুঝে কর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ঐক্যবদ্ধ করার ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে তৃণমূল।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ