Bartaman Logo
৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব,এবার শীতলকুচিতে ডিম থেরাপির শিকার বিজেপি নেতারাই

রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর জনরোষের নাম করে শুরু হয়েছিল‘ডিম-থেরাপি’।

গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব,এবার শীতলকুচিতে ডিম থেরাপির শিকার বিজেপি নেতারাই
  • ৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শীতলকুচি: রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর জনরোষের নাম করে শুরু হয়েছিল‘ডিম-থেরাপি’। এক্ষেত্রে জনগণের নিশানায় সবসময়ই থাকছেন তৃণমূল সহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা। এবার কোচবিহারের শীতলকুচিতে দলীয় কর্মীদের ডিম থেরাপির শিকার হতে হল বিজেপি নেতৃত্বকেই। সোমবার শীতলকুচি ব্লকের ছোটো শালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের সামনে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল ঘিরে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। পঞ্চায়েত অফিস সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে নেতাদের আটকে রেখে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন পদ্মপার্টির দুই গোষ্ঠীর কর্মী-সমর্থকরা। ঘটনায় জখম হন সংগঠনের ৫নম্বর মণ্ডলের কিষান মোর্চার সহসভাপতি শংকর বর্মন ও মহিলা মোর্চার কোচবিহার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদিকা বিউটি বর্মন। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক হয়েছিল যে, পুলিশ ভ্যানে করে এলাকা ছাড়তে হয় বিজেপির মণ্ডল সভাপতি পবিত্র অধিকারীকে। পরে শীতলকুচি থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিজেপির ৫নম্বর মণ্ডল সভাপতি পবিত্র অধিকারী, সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ সরকার, মহিলা মোর্চার কোচবিহার জেলা সাধারণ সম্পাদিকা বিউটি বর্মন সহ বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা দলীয় কার্যালয়ে আসেন। রাজ্যে পালাবদলের পর পঞ্চায়েত অফিসে আসছেন না তৃণমূল প্রধান ও পঞ্চায়েত সদস্যরা। এদিন তাঁদের আসার কথা শুনতে পেয়ে দলীয় অফিসের সামনে জমায়েত হতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা।  দলের কর্মী গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের অভিযোগ, তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের কাছ থেকে কাটমানি নিয়েছেন আমাদের দলের নেতারা। এদিন তাই তাঁদের উপস্থিতিতে প্রধানকে অফিসে ঢোকানোর কথা ছিল। সাধারণ মানুষ তৃণমূল প্রধানকে চাইছে না। ক্ষুব্ধ কর্মীরা তাই দলের নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছুড়েছেন। 

Advertisement

যদিও বিষয়টি নিয়ে বিজেপির ৫নম্বর মণ্ডল সভাপতির দাবি, পঞ্চায়েতের উন্নয়নমূলক কাজ থমকে আছে। দলীয় নেতৃত্ব ও সমস্তস্তরের কর্মীর সহমতেই মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু, ৪ তারিখের পর বিজেপি নেতা বলে দাবি করা কয়েকজন এই ঘটনা ঘটাল। বিষয়টি জেলা নেতৃত্বকে জানিয়েছি। 
যদিও বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। সিপিএমের কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় জানান, এতদিন বিরোধী নেতা-নেত্রীদের ডিম ছুড়ে মারা হচ্ছিল। এখন  বিজেপির কর্মীরাই নেতাদের ডিম ছুড়ছেন, এটাই কর্মফল।  
শীতলকুচির বিজেপি বিধায়ক সাবিত্রী বর্মনের বক্তব্য , পঞ্চায়েত প্রধানরা না আসায় জনগণ পরিষেবা পাচ্ছে না। মানুষকে পরিষেবা ও গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি সচল রাখতে মণ্ডল নেতৃত্ব ও পদাধিকারীদের বৈঠক ছিল। কিন্তু, সাধারণ মানুষ চাইছে না তৃণমূলের প্রধান ও সদস্যরা পঞ্চায়েত অফিসে আসুক। বিজেপি কর্মীদের কেউ এই ঘটনায় জড়িত নয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ