


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা নার্সিংহোমে সারপ্রাইজ ভিজিটের আগেই সেই খবর পেয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। ভিজিটের আগে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের অফিসে জানাতে হয়। সেটা করতে গিয়ে খবর লিক হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। সম্প্রতি তমলুকে এরকম পর পর কয়েকটি ঘটনার পর জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর স্বাস্থ্য জেলার অধীনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপাতত ভিজিট বন্ধ থাকছে। শুধু তাই নয়, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অফিসের দু’জনের বিরুদ্ধে একাধিক নার্সিংহোমে বেনামে শেয়ার থাকার বিষয়ে চিঠি আসার পর তা নিয়ে ভিজিল্যান্স এনকোয়ারিও শুরু হয়েছে। গোটা ঘটনায় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যদপ্তরের অন্দরে শোরগোল পড়েছে।
এনিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের সিএমওইচ বিভাস রায় বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিজিট না করার সিদ্ধান্ত হলে সেটা তাদের বিষয়। ভিজিল্যান্সের বিষয়টিও আমার জানা নেই। এটি আমার জানার কথাও নয়।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দু’টি স্বাস্থ্য জেলা আছে। একটি পূর্ব মেদিনীপুর, অন্যটি নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলা। নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলায় একের পর এক নার্সিংহোম ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভিজিট এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলেও ব্যতিক্রম পূর্ব মেদিনীপুর স্বাস্থ্য জেলা। কারণ, এই স্বাস্থ্য জেলার অধীনে ভিজিট একেবারেই কম। অথচ,তমলুকে নার্সিংহোম ও ডায়াগস্টিক সেন্টার নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। কয়েকদিন আগে অফিসার ইন-চার্জ হেল্থ শুভ সিংহরায়ের উদ্যোগে প্রশাসনের একটি টিম তমলুক শহরে স্টেশন রোডে একটি নার্সিংহোমে সারপ্রাইজ ভিজিট চালিয়েছিল। সিএমওএইচ অফিসকে না জানিয়ে সেই ভিজিট হয়। তখন নার্সিংহোমে কোনও আরএমও দেখা যায়নি। আলাদা কেবিন নেই। ওটির অবস্থা শোচনীয়। নার্সিংহোমের জন্য ন্যূনতম পরিকাঠামো ছিল না। এনিয়ে কড়া রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছতেই নার্সিংহোম অ্যাসোসিয়েশনের নেতা গিফ্টের ডালি নিয়ে সোজা স্বাস্থ্যদপ্তরের অফিসার ইনচার্জের টেবিলে হাজির হন। তাঁকে সেসব নিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। পরিকাঠামো তৈরির কাজ সম্পন্ন করতে দু’মাস লেগেছিল ওই নার্সিংহোমের।
সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তমলুকে বেশ কয়েকটি নার্সিংহোমে সারপ্রাইজ ভিজিটের সিদ্ধান্ত হয়। এজন্য মুখ্য স্বাস্থ্য অফিসারের অফিসকে জানাতে হয়। কারণ, টিমে ডাক্তার থাকেন। ভিজিটের আগেই অফিসার ও স্বাস্থ্য আধিকারিকরা গিয়ে দেখেন, সবকিছু ঝাঁ চকচকে। অন্য জায়গা থেকে বেড, মেডিকেল সরঞ্জাম ভাড়া করে আনা হয়। এরকম পরপর কয়েকটি ঘটনার পর বিরক্ত প্রশাসন ঠিক করেছে, নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলায় ভিজিট হলেও আপাতত তমলুকে নয়।
সম্প্রতি রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের পক্ষ থেকে তমলুক শহরে ১০নম্বর ওয়ার্ডে পদুমবসানে একটি সদ্য নির্মিত বেসরকারি হাসপাতালে ভিজিট করা হয়। সেই ভিজিটের সময় জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরকে জানানো হয়নি। বরং প্রশাসনের অফিসাররা তাতে শামিল হন। ওই বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বেশকিছু রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের দু’জন বেনামে শহরের একাধিক নার্সিংহোমের পার্টনার বলে সম্প্রতি একটি চিঠি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছেছে। সেটি ভিজিল্যান্সের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে তদন্তও চলছে। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গোপনে স্বাস্থ্যদপ্তরের একাংশের আঁতাতে বেহাল পরিকাঠামো ও পরিষেবার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না। এই ছবিটা কীভাবে বদল হবে সেই উত্তর খুঁজছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন।