Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পূর্ব মেদিনীপুরে শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাবে ধুঁকছে মাধ্যমিক ও শিশু শিক্ষাকেন্দ্র

পূর্ব মেদিনীপুরে শিক্ষক অভাবে মাধ্যমিক ও শিশু শিক্ষাকেন্দ্রগুলি বিপর্যস্ত। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে শিক্ষক সংগঠন। বিস্তারিত পড়ুন।

পূর্ব মেদিনীপুরে শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাবে ধুঁকছে মাধ্যমিক ও শিশু শিক্ষাকেন্দ্র
  • ৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: যেসব এলাকায় অনেকটা দূরত্ব জুড়ে হাইস্কুল নেই, সেখানে গড়ে তোলা হয়েছিল মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র। আবার যেসব এলাকায় প্রাথমিক স্কুল দূরে, সেখানে শিশু শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু কাঁথি সহ পূর্ব মেদিনীপুর তথা রাজ্যজুড়েই মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র ও শিশু শিক্ষাকেন্দ্রগুলি শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাবে ধুঁকছে। কারণ দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে রাজ্যে এই দুটি ক্ষেত্রে নিয়োগই বন্ধ রয়েছে। তাই এবার পালাবদল হওয়ার পর নতুন করে আন্দোলনে নেমেছে ওয়েস্টবেঙ্গল এমএসকে অ্যান্ড এসএসকে টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। বন্ধ থাকা শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অবিলম্বে চালু করা, সাম্মানিকের পরিবর্তে প্রথাগত শিক্ষকদের মতো স্থায়ী বেতনক্রম প্রদান সহ একগুচ্ছ দাবিতে সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হয়েছে সংগঠন। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি বিকাশকুমার বারিক এবং কাঁথি পুরসভা কমিটির সম্পাদক নিতুল অধিকারীর স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। গ্রাম ও শহরতলির পিছিয়ে পড়া এবং অবহেলিত পড়ুয়াদের শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে শিশু শিক্ষাকেন্দ্র ও মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলির যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে, তা মনে করিয়ে দিয়েই সংগঠনের তরফে শিক্ষা ব্যবস্থার হাল ফেরাতে মুখ্যমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে। 

Advertisement

উল্লেখ্য, ১৯৯৭-৯৮ সালে রাজ্যে শিশু শিক্ষাকেন্দ্র এবং ২০০৩-০৪ সালে মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলির পথচলা শুরু হয়েছিল। শিশু শিক্ষাকেন্দ্রগুলি চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত এবং মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত রয়েছে।  বর্তমানে রাজ্যে সমগ্র শিক্ষা মিশনের অধীনে প্রায় ১ ৭হাজার শিশু শিক্ষাকেন্দ্র এবং ১হাজার ৯২০টি মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। অথচ ২০১০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এই কেন্দ্রগুলিতে শিক্ষক শুধু নয়, ক্লার্ক ও পিয়ন নিয়োগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে শিক্ষকের অভাব প্রকট হয়েছে। মূলত শিক্ষকের অভাব সহ নানা পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে রাজ্যের বহু মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র ও শিশু শিক্ষাকেন্দ্র ইতিপূর্বে বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই কারণেই পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি ও এগরা মহকুমায় বহু শিশু শিক্ষাকেন্দ্র ও মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শিক্ষকদের বঞ্চনা ও পরিকাঠামোগত অভাবের কথা তুলে ধরে সংগঠনের তরফে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রাখা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, সম্মানিক বা সাম্মানিক ভাতার পরিবর্তে এই শিক্ষকদেরও অবিলম্বে প্রথাগত শিক্ষকদের মতো নির্দিষ্ট বেতনক্রম ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় আনতে হবে। 
পাশাপাশি অবসরের পর এককালীন ১২লক্ষ টাকা গ্র্যাচুইটি প্রদানের দাবিও জানানো হয়েছে। পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে নজর দিয়ে শিক্ষাকেন্দ্রগুলিতে অবিলম্বে কম্পিউটার শিক্ষা চালুর দাবি জানিয়েছে শিক্ষক সংগঠন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, অষ্টম শ্রেণি পাশ করার পর পড়ুয়াদের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে ছাত্রীরা স্কুলছুট হয়ে বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই সামাজিক ব্যাধি রুখতে এবং পড়ুয়াদের শিক্ষাজীবন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলিকে নবম ও দশম শ্রেণিতে উন্নীত করার আবেদন জানানো হয়েছে। 
রাজ্য সভাপতি বিকাশবাবু বলেন, আমরা এনিয়ে অনেকদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে দাবি জানিয়ে আসছি। এবার মুখ্যমন্ত্রীর সদর্থক হস্তক্ষেপে পূর্ব মেদিনীপুর সহ পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলার মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র ও শিশু শিক্ষাকেন্দ্রগুলি পুনরায় শিক্ষাজগতের দিশারী হয়ে উঠবে বলে আমরা আশাবাদী।
 বন্ধ কাঁথির দুরমুঠ মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র আগাছায় ঢেকে গিয়েছে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ