নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘লোকতন্ত্র বাঁচানো’র অঙ্গীকার নিয়ে রাস্তায় নামল বিজেপি। সেই মিছিলের জেরে বিপন্ন জনসাধারণের যাতায়াত। বিজেপির এই মিছিলকে কেন্দ্র করে সোমবার দীর্ঘক্ষণ প্রায় স্তব্ধ হয়ে থাকল মধ্য কলকাতার যান চলাচল। তার রেশ গিয়ে পড়ল উত্তর ও দক্ষিণে। সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে ব্যাপক ভোগান্তির সাক্ষী থাকল আম জনতা। শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত শহরের সবকটি রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। দিনভর আম জনতার এই ভোগান্তিতে ক্ষুব্ধ বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো পোস্ট করে যানজটের জেরে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তাকেই দায়ী করেছেন তিনি।
দেশের বিভিন্ন শহরে ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’— এই স্লোগান তুলে মিছিল করছেন বিজেপির শীর্ষনেতারা। সোমবার একই ইস্যুতে সেই মিছিলের আয়োজন করা হয় খাস কলকাতায়। এদিন বিকালে কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করে এরাজ্যের শাসকদল। এখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক নীতিন নবীন, দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ নেতা-মন্ত্রীরা। হাই প্রোফাইল এই মিছিলের জেরে উপেক্ষিত হল সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থা। অরাজকতা হঠানোর মিছিলের জেরে প্রভাব পড়ল মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মে। মিছিল বিকালে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর থেকেই নানা প্রান্ত থেকে শাসকদলের কর্মী-সমর্থকরা এসে জড়ো হন কলেজ স্ট্রিটে। বিজেপি বিধায়কদের নেতৃত্বেও বহু কর্মী আসেন মিছিলে। এর জেরে বেলা ১টার পর থেকেই অবরুদ্ধ হয়ে যায় কলেজ স্ট্রিট। সমস্যায় পড়েন আশপাশের স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা। বউবাজার, সূর্য সেন স্ট্রিট, কলেজ স্ট্রিটের সংলগ্ন একাধিক রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। মিছিলের চাপ গিয়ে পড়ে শিয়ালদহ ফ্লাইওভার এবং এমজি রোডে। যানজটের কারণে শিয়ালদহ ফ্লাইওভার থেকে এমজি রোডের দিকে যান চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ে। সেই চাপ গিয়ে পড়ে এপিসি রোড ও মৌলালি ক্রসিং-এ। একইসঙ্গে মিছিল শুরু হয়। বউবাজার, সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার, ওয়েলিংটন ক্রসিং, এসএন ব্যানার্জি রোডে মিছিল গিয়ে পড়লে যানজট আরও বাড়ে। এই সময়ে মৌলালি থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত গোটা রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় রাস্তাতেই। স্তব্ধ হলে যায় সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ও ধর্মতলা চত্বর। এর ফলে উত্তরে শ্যামবাজার ও দক্ষিণে এক্সাইড মোড় পর্যন্ত যানজট তৈরি হয়। নিত্যযাত্রীদের বক্তব্য, ‘খোদ শাসকদল কেন রাজ্যে লোকতন্ত্র বাঁচাতে মিছিল করছে, তা বোধগম্য নয়। এটা তো সরকারের ব্যর্থতাকেই প্রমাণ করে।’
আম জনতার এই বক্তব্যকে উসকে দিয়েছেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি মধ্য কলকাতার যানজট নিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চল কাজের দিনের ব্যস্ত সময়ে স্তব্ধ হয়ে ছিল। এ নিয়ে পুলিশের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। কলকাতা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র



