নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: অবশেষে স্থায়ী সমাধানের পথে পানিহাটির জঞ্জাল সমস্যা। তৈরি হতে চলেছে নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ড। বৃহস্পতিবার নগরোন্নয়ন দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর বিলকান্দা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত পানিহাটি পুরসভাকে বিকল্প জমির প্রস্তাব দিয়েছিল। শুক্রবার উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধিদল ওই জমি পরিদর্শন করার পর সেখানে ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন। পুরসভা সূত্রে খবর, দু’-একদিনের মধ্যেই ওই জমি পরিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন সুডা ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিকরা। ফলে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ডাম্পিং গ্রাউন্ড নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা এবার কাটতে চলেছে। ভাগাড় তৈরি হয়ে গেলে অবশেষে নরক-যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাবেন পানিহাটিবাসী। অন্যদিকে, এদিন রাজ্য সরকারের তরফে পানিহাটি পুরসভায় নতুন এগজিকিউটিভ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।
স্থানীয় মানুষের আন্দোলনের জেরে পানিহাটি পুরসভার রামচন্দ্রপুর ডাম্পিং গ্রাউন্ড বন্ধ রয়েছে। আবর্জনা ফেলার স্থায়ী জায়গা না থাকায় শহর জঞ্জাল নগরীতে পরিণত হয়েছিল। খড়দহ বিধানসভার বিলকান্দা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিষপোতায় কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া এলাকায় পুরসভার বিশাল ফাঁকা জমি রয়েছে। সেখানে পুরসভা ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির চেষ্টা চালালেও তা স্থানীয়দের বাধায় আটকে যায়। এই আবহে বৃহস্পতিবার নগরোন্নয়ন দপ্তরে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানে বিলকান্দা ১ নম্বর পঞ্চায়েতের তরফে নতুন প্রস্তাব দিয়ে বলা হয়, পুরসভা মহিষপোতার ওই জমি পঞ্চায়েতকে হস্তান্তর করুক। পঞ্চায়েত বিনিময়ে ফাঁকা জায়গায় তাদের বিকল্প জমি দেবে। সেখানে ডাম্পিং গ্রাউন্ড হলে কেউ প্রতিবাদ করবে না। ওই প্রস্তাব সবাই মেনে নেয়।
এদিন সুডার ডিরেক্টর জলি চৌধুরীর নেতৃত্বে নগরোন্নয়ন দপ্তর ও কেএমডিএ’র প্রতিনিধিরা ওই জমি দেখতে হাজির হয়েছিলেন। এছাড়াও গিয়েছিলেন পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে, বিলকান্দা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা। সোমনাথবাবু বলেন, ওই জমি প্রশাসনের আধিকারিকদের পছন্দ হয়েছে। ওই জায়গায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি হলে কারও সমস্যা হবে না। দ্রুত ওই জমি পরিষ্কার করে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
অন্যদিকে, এদিন রাজ্য প্রশাসনের তরফে নোটিস জারি করে বলা হয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত সুরজিৎ ঘোষকে পানিহাটি পুরসভার এগজিকিউটিভের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।