নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: জন্মের এক বছরের বেশি সময় পর বার্থ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে গেলে লাগবে মহকুমা শাসকের নির্দেশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় এই নিয়ম চালু করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে এক গুচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। প্রথমে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতে আবেদন করতে হবে। সেখান থেকে একদফা যাচাই হবে। আবেদনকারীর পক্ষে পাঁচজন সাক্ষীর দরকার পড়বে। তাঁদের আধার কার্ড সহ পুরো রিপোর্ট ‘ই-ডিস্ট্রিক্ট’ পোর্টালে আপলোড করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মহকুমা শাসক তা খতিয়ে দেখবেন। তিনি যদি যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্ট হন, তবেই পঞ্চায়েতকে বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করার নির্দেশ দেবেন। এতদিন পর্যন্ত আবেদনকারী একটি এফিডেভিট পঞ্চায়েতে জমা দিতেন। তা দেখেই পঞ্চায়েত প্রধান জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করে দিতেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জাল জন্ম শংসাপত্র ঠেকাতেই এমন উদ্যোগ। ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন শুরু হওয়ার আগে এখন পঞ্চায়েতগুলিতে বার্থ সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য বহু মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। কেউ ৩০ বছর ধরে শংসাপত্র নেননি, কেউ তারও বেশি। এই সুযোগে দালালরা যাতে কোনওরকম জালিয়াতি না করতে পারে, তার জন্যই জেলা প্রশাসনের তরফে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই কড়াকড়ি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি স্বাস্থ্যদপ্তর জেলাগুলির সঙ্গে এক বৈঠকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল।
এক আধিকারিক জানিয়েছেন, জন্মের ২১ দিনের মধ্যে সার্টিফিকেট নিতে কোনও কিছুই লাগে না। তারপর যত দেরি হবে, তার জন্য কখনও ফাইন, কখনও ফার্স্ট ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে এফিডেভিট জমা করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এখন বার্থ সার্টিফিকেট নিয়ে নানা অনিয়ম সামনে আসছে। তাই বৈধ শংসাপত্র দেওয়ার আগে নিশ্ছিদ্র যাচাই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হচ্ছে। মহকুমা শাসক যদি কোনও আবেদনকারীর নথিপত্রে সন্তুষ্ট না হন, সেক্ষেত্রে তিনি নতুন করে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিতে পারেন।