ইন্দ্রজিৎ কর্মকার, কান্দি: শুধু সখের কারণে মাসের পর মাস শিশুর মতো যত্ন করে ফুল ফোটানো হয়। সেই ফুল চুরি যায়, তাহলে মালিকের মনের অবস্থা কেমন হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। বাস্তবে এমনটা হয়েও থাকে কান্দি মহকুমার প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে। প্রতিবছর ২৬ জানুয়ারির ভোরে ফুল চুরি যাওয়ার অসংখ্য ঘটনা ঘটে। চুরির আতঙ্কে বাগানের মালিরাও সর্তক থাকেন। সাধারণতন্ত্র দিবসের ভোরে বাগান পাহারা দেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, সাধারণতন্ত্র দিবসে শহরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতেও বাড়ি বাড়ি পতাকা তোলা হয়। বিভিন্ন ক্লাব থেকেও পতাকা উত্তোলন করা হয়। ছোট ছোট অনুষ্ঠান হয়। সবক্ষেত্রেই প্রয়োজন পড়ে ফুলের। সেসব ফুল জোগাড় হয় যাঁরা বছরভর কষ্ট করে যত্ন করে ফুল গাছ লালিতপালিত করে থাকেন তাঁদের বাগান থেকে। প্রত্যন্ত গ্রামে বাজার থেকে ফুল কেনার রেওয়াজ নেই।
কান্দির বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণতন্ত্র দিবসের ভোরে ফুল চুরি যাওয়ার ঘটনা আকছার ঘটে। খড়গ্রামের পুড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ পাল বলেন, গতবছরও সাধারণতন্ত্র দিবসে আমার বাগান থেকে ফুল চুরি গিয়েছে। পাহারা দিয়েও চোর ধরতে পারিনি। কখন কীভাবে চুরি হল তা বুঝতেই পারলাম না। প্রায় একই কথা জানালেন ভরতপুর থানার হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামের নকুল মণ্ডল। তিনি বললেন, আমার বাগান থেকে ফুল চুরি হয়েছে সেটা তখনই বুঝলাম যখন আমাকে বেদিতে ফুল অর্পণ করতে বলা হল। হাতে ফুল নিয়েই বুঝলাম এই ফুল আমার বাগানের। তখন আর কিছুই করার নেই। অথচ কী কষ্ট করেই না ফুল গাছ লাগিয়েছিলাম।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাধারণতন্ত্র দিবসের ভোরে ফুল চুরি যাওয়ার রেওয়াজ এলাকার কার্যত প্রতিটি গ্রামের। বিশেষ করে গাঁদা, রজনীগন্ধা, গোলাপ এসব ফুল চুরি হয়ে থাকে। তাই ওইদিন ভোরে ফুলের বাগান পাহারা দেওয়ার রেওয়াজও রয়েছে। কোথাও আবার ফুল চুরি নিয়ে মারামারিও হয়ে থাকে। কান্দি থানার বেণিপুর গ্রামের বাসিন্দা কিসমত শেখ বলেন, ২৬ এর ফুল চুরির ঘটনা নিয়ে শুধু মারামারি নয়, একবার আমার সঙ্গে পাড়ার ছেলেদের থানা পুলিসও হয়েছিল।
তাই ২৬-এর ভোরে এলাকার অসংখ্য বাগান মালিক পাহারা দিয়ে থাকেন। ভরতপুরের বাসিন্দা শ্যামল সাহা বলেন, খুব কষ্ট করে ফুল গাছ লাগিয়েছি। সেই ফুল চুরি গেলে দুঃখের শেষ থাকে না। তাই ২৬-এর ভোরে উঠে বাগান পাহারায় থাকি।