Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সদিচ্ছা দেখায়নি কেন্দ্র, রাজ্যের অনুমতি মিলতেই এবার সংস্কার করা হবে ইছামতী

সদিচ্ছা দেখায়নি কেন্দ্র, রাজ্যের অনুমতি মিলতেই এবার সংস্কার করা হবে ইছামতী
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কেন্দ্রীয় সরকার ‘সদিচ্ছা’ দেখায়নি ইছামতী নদী সংস্কারের। তাই আর কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী না থেকে নদী সংস্কারে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। ইছামতী ছাড়াও যমুনা নদী ও পদ্মা খালে ড্রেজিং করা হবে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনকে কাজ শুরু করার ছাড়পত্র দিয়েছে। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের কর্তারা তিনটি জলধারাই পরিদর্শন করেন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই কাজের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
Advertisement
বনগাঁ ও বসিরহাট মহকুমার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে ইছামতী। এই দুই মহকুমার নিকাশি জল মূলত যায় ইছামতী, যমুনা নদী ও পদ্মা খাল দিয়ে। ভারী বৃষ্টি হলে পাড় উপচে জল উঠে আসে জনপদে। ভেসে যায় একের পর এক গ্রাম। ফি বছর এটাই চেনা ছবি। দীর্ঘদিনের এই যন্ত্রণা থেকে অবশেষে মুক্তি পেতে চলেছেন নদী-খালের দু’পাড়ের মানুষ। সেচদপ্তরের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ইছামতীর বুকে অন্তত পাঁচ জায়গায় উঁচু ঢিবি ছিল। তাতেই বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছিল জলপ্রবাহ। সেই ঢিবি পরিষ্কার করা হয়েছে। এই কাজে সেচদপ্তরের খরচ হয়েছে ৬০ লক্ষ টাকা। সাময়িকভাবে এই কাজ করা হলেও স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগী হয়েছে জেলা পরিষদ ও প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সেচদপ্তরের ইছামতী খননের অনুমতি দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্বরূপনগর টিপি ঘাট থেকে বসিরহাটের সংগ্রামপুর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার ড্রেজিং করা হবে। কোনও স্বশাসিত সংস্থা এই কাজ করবে। পলি তোলার পর তারাই তার একাংশ বিক্রি করবে। সরকারকে তারা নিয়ম মেনে রাজস্ব দেবে। সংস্থাটি উত্তোলিত পলির বাকি অংশ দেবে প্রশাসনকে। সেই পলিমাটি জেলা প্রশাসন বিক্রি করে এলাকা উন্নয়নের কাজে খরচ করবে। ফলে, একদিকে যেমন জলযন্ত্রণা কমবে, তেমনই এলাকার উন্নয়ন হবে।
এক বছর বাদেই রাজ্যে বিধানসভা ভোট। সেই ভোটে এই ইস্যু যে অন্যমাত্রা পাবে, তা বলা বাহুল্য। সূত্রের খবর, কীভাবে খননের কাজ করা হবে, তার রুট ম্যাপ তৈরি হয়ে গিয়েছে। নদীগর্ভে কোথায় কেমন গভীরতা, তা মাপজোক করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ভাবনা, ইছামতীর জলস্তর থাকবে যমুনা ও পদ্মার নীচে। তাহলে নদী-খাল কানায় কানায় হলেও জনপদে ঢুকবে না। জেলাশাসক শরদকুমার দ্বিবেদী বলেন, রাজ্য থেকে নদী খননের এনওসি পাওয়া গিয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই অকশন করে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, মানবিক মুখ্যমন্ত্রীকে ইছামতী সংস্কারের অনুমতি দিয়েছেন। ফলে জলযন্ত্রণা যেমন কমবে, তেমনই এলাকার সার্বিক উন্নয়ন হবে। এজেন্সির দেওয়া পলিমাটি আমরা বিক্রি করব। সেই টাকা পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ উন্নয়নের কাজে লাগাবে। আশা করি, মাসখানেকের মধ্যেই শুরু হবে মাটি খননের কাজ।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ