নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এন্টালির পর এবার আনন্দপুর। বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে শনিবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাইপাস সংলগ্ন এই এলাকা। পাড়ার মধ্যে বা চার দেওয়ালের ঘেরাটোপে নয়, একেবারে থানার সামনে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিজেপির প্রাক্তন ও ‘সাসপেন্ডেড’ মণ্ডল সভাপতির গোষ্ঠী। শনিবার রাত ১১টা থেকে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে চাপানউতোর। উভয় পক্ষই পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ আনে এবং একে অপরের বিরুদ্ধে আনন্দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে। নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছর রথের মেলার পর স্থানীয় একটি ক্লাব ‘গেট টুগেদার’ আয়োজন করে। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন বকলমে তারাই এই অনুষ্ঠান করত। পালাবদলের পর ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি সরস্বতী সরকার ‘গেট টুগেদার’ আয়োজন করছিলেন। ২৩ আগস্ট, রবিবার প্রায় হাজার জনের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছিল। সরস্বতীদেবীর অভিযোগ, যে মাঠে রবিবার অনুষ্ঠান হওয়ার কথা, শনিবার রাতে সেখানে দলবল নিয়ে হাজির হন সাসপেন্ডেড মণ্ডল সভাপতি অরুণ বিশোই। প্যান্ডেল ভেঙে দেওয়া হয়। তাঁর অনুগামীদের মারধর করা হয়। অরুণের সঙ্গে থাকা লোকজন লাঠি ও লোহার রড নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তাতে এক বিজেপি কর্মীর মাথা ফেটে গিয়েছে। প্রথমে থানায় যান সরস্বতীদেবীর অনুগামীরা। তাঁরা থানায় গিয়েছেন খবর পেয়ে অরুণও তাঁর সমর্থকদের নিয়ে হাজির হন সেখানে। তখন দুই পক্ষ থানার সামনে আরেক দফা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। থানার সামনে রীতিমতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশ কোনোরকমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর উভয় পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করে।
প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতির অভিযোগ, অরুণ সাসপেন্ডেড হলেও নিজেকে মণ্ডল সভাপতি বলে দাবি করে চলেছেন। বলে বেড়াচ্ছেন, দল নাকি শাস্তি তুলে নিয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, তৃণমূল থেকে আসা লোকজনকে নিয়ে আনন্দপুর এলাকায় তোলাবাজি করে বেড়াচ্ছেন অরুণ ও তাঁর দলবল। ক্লাব দখল করতে চাইছেন। অরুণকে মদত দিচ্ছেন জেলা বিজেপির এক নেতা। এর বিরুদ্ধে তিনি রাস্তায় নেমেছেন বলেই তাঁর উপর এই হামলা। অরুণবাবুর পালটা অভিযোগ, ‘সরস্বতী সরকারই তৃণমূলের লোকজন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ওঁর সঙ্গে থাকা তৃণমূলের লোকজনই হামলা চালিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তোলাবাজির টাকাতেই এই ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। ১৫ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছে। মেনুতে ছিল খাসির মাংস, গলদা চিংড়ি, কাতলা।’ তাঁকে ওই অনুষ্ঠানে ডাকা হয়নি বলেও দাবি অরুণের। তোলাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার নাম করে এলাকায় অনেকে টাকা তুলছে।’ ফের ঘরোয়া কোন্দল বেআব্রু হয়ে পড়ায় অস্বস্তি বেড়েছে গেরুয়া শিবিরের। দলের নীচুতলা কি আদৌ শীর্ষ নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে আছে, উঠেছে সেই প্রশ্নও।