নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: পার্টি অফিস তৈরিকে কেন্দ্র করে নিউটাউনে প্রকাশ্যে এল বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল। বুধবার রাতে পাথরঘাটার নস্করপাড়ায় পুরানো এবং নব্য বিজেপি কর্মীরা একে অপরের সঙ্গে হাতাহাতিতেও জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অন্যদিকে, শুধু হাতাহাতি নয়, এই পার্টি অফিস তৈরি ঘিরে তোলাবাজিরও অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। খোদ প্রাক্তন বিএফএফ জওয়ান এই অভিযোগ তুলেছেন। মাসে ৩০ হাজার টাকা না দেওয়ার জন্যই তাঁর গেস্ট হাউসের সামনে জোর করে অফিস তৈরি হচ্ছিল! এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোরগোল ছড়িয়েছে। যদিও তোলাবাজি বা হাতাহাতি নিয়ে পুলিশের কাছে কেউ কারও বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।
জানা গিয়েছে, নস্করপাড়ায় রাস্তার ধারে অবসরপ্রাপ্ত বিএসএফ জওয়ানের একটি গেস্ট হাউস রয়েছে। তাঁর বিল্ডিংয়ের সামনেই রাস্তার ধারে বিজেপির কয়েকজন একটি পার্টি অফিস তৈরি করছিল। খুঁটি দিয়ে টিনও টাঙানো হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরেই এই অফিসটিকে নিয়ে ঠান্ডা লড়াই চলছিল। কারণ, পুরানো বিজেপি কর্মীদের অনেকেই চাইছিলেন, জোর করে দলের পার্টি অফিস হোক। তা নিয়ে বুধবার রাতে আচমকা দু’পক্ষের মধ্যে বচসা বাধে। হাতাহাতি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় টেকনোসিটি থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলে যান রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। তাঁর সামনেও হাতাহাতি চলে। তবে, বিধায়কের হস্তক্ষেপে গণ্ডগোল থামে।
ওই প্রাক্তন বিএসএফ জওয়ান সংবাদমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেছেন, ভোটে জেতার পর আনন্দ করার জন্য তিনি বিজেপি কর্মীদের ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু, দিন কয়েক আগে কয়েকজন বিজেপির ছেলে তাঁর কাছে এসে দাবি করেন, তাঁর বিল্ডিংয়ের সামনেই পার্টি অফিস করা হবে। তিনি অন্য জায়গায় করার অনুরোধ করেন। তার জন্য খরচা দেবেন বলেও তিনি তাঁদের জানান। কিন্তু, ওই বিজেপি কর্মীদের দাবি, যদি তিনি প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা করে দেন, তাহলে তাঁর বিল্ডিংয়ের সামনে অফিস করবে না। না দিলে করবে। জওয়ান টাকা না দেওয়ায় তাঁর বিল্ডিংয়ের সামনে ওই পার্টি অফিস তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ।
বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া বলেন, আমার কাছে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছিলেন, তাঁদের এলাকায় গেস্ট হাউসে দুষ্কর্ম চলছে। এটা বন্ধ হওয়া উচিত। একজন পার্টি অফিসের জায়গা দিয়েছিলেন। সেখানে অফিস হচ্ছে দেখে গেস্ট হাউসের ব্যক্তি আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়নি।