শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: বারাসত পুরসভা ভোট কবে হবে, তার দিনক্ষণ এখনও ঘোষিত হয়নি। তবে ভোটের জন্য বিবদমান রাজনৈতিক দলগুলির তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই সূত্রে খবর, ভোটের অনেক আগে থেকেই কাউন্সিলার হওয়ার দৌড়ে সরগরম বারাসত বিজেপির অন্দরমহল। পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডের এক-একটিতে পদ্ম-প্রতীকে প্রার্থী হতে চাইছেন ৮ থেকে ১০ জন। পরিস্থিতি এমন যে বিরোধী দলের মোকাবিলার প্রস্তুতির চেয়ে নিজেদের মধ্যে টিকিটের অঙ্ক মেলাতেই আপাতত ব্যস্ত বিজেপি শিবির। যার সূত্রে সামনে আসছে বিজেপির অন্দরের গোষ্ঠী সমীকরণ। পুরানো রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং নতুন করে দলে যোগ দেওয়ার আগ্রহ নিয়েও চর্চা বাড়ছে জেলা সদর শহরে।
সকাল হলেই বারাসত থেকে একাধিক নেতার গন্তব্য হাবড়া! দলের জেলা সভাপতির দরবারে হাজির হচ্ছেন অনেকে। কেউ আবার অন্য ‘প্রভাবশালী’ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করছেন। কার শিবিরে থাকলে টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে, সেই হিসাব করে চলছে দৌড়ঝাঁপ। সব মিলিয়ে পুরসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই বিজেপির অন্দরে শুরু হয়েছে প্রার্থী হওয়ার অঘোষিত প্রতিযোগিতা। এর মধ্যেই বারাসতে বিজেপির রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করছে দলবদলের আগ্রহ। এই সেদিনের তৃণমূল পদাধিকারীরা দলে দলে বিজেপিতে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা সিপিএমের কয়েকজন নেতাও বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে সূত্রের দাবি। তাঁরা নিজেদের ‘সমাজসেবী’ হিসাবে জানান দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বিজেপি নেতাদের সঙ্গে আচমকাই সুসম্পর্ক বাড়াচ্ছেন কেউ কেউ। তাঁদের সম্ভাব্য যোগদান ঘিরে দলের অন্দরে চলছে কাটাছেঁড়া। প্রশ্ন উঠেছে, এরপর পুরানো বিজেপি কর্মীদের জায়গা কতটা সুরক্ষিত থাকবে? অভিযোগ, বিজেপির একটি অংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ‘নতুন মুখদের’ দলে আসার পথ প্রশস্ত করছে। সেই জন্য সম্ভাব্য ‘দলবদলুদের’ নিয়ে গোপন ডেরায় বৈঠক হচ্ছে! কেউ কেউ আবার ভিন জেলায় গিয়ে ‘চায়ে পে চর্চা’য় ‘সেটিং’ চূড়ান্ত করছেন বলে খবর। ফলে দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এছাড়া গত পুরভোটে বিজেপির পরাজিত প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও দলের অন্দরে চলছে চর্চা। একদিকে, পুরানোদের টিকিটের দাবি, অন্যদিকে নতুনদের সম্ভাবনা— সব মিলিয়ে প্রার্থী বাছাইয়ের আগেই জটিল হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্ক।
উল্লেখ্য, বারাসত পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ড দীর্ঘদিন ধরেই ছিল পূর্বতন শাসক দল তৃণমূলের দখলে। এবার বিজেপি পুরসভা দখলের লক্ষ্য নিয়ে কতটা সংগঠিতভাবে এগতে পারে, তা নির্ভর করবে নিজেদের ঘরের অঙ্ক মেলানোর উপরও। বারাসত সংগঠনিক জেলার এক পদস্থ বিজেপি নেতা বলেন, ‘দলের একটা আদর্শ রয়েছে। কেউ যদি ভাবে কারো সঙ্গে থেকে টিকিট মিলবে, তা হবে না। সিপিএম বা তৃণমূল আমাদের কাছে গুরুত্বহীন। সুবিধাবাদীদের বিজেপিতে প্রবেশ নিষেধ।’



