নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দার্জিলিং চায়ের খ্যাতি জগৎজোড়া। অথচ সেই চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে নেপালের চা। এর ফলে একদিকে যেমন চায়ের কদর কমছে, তেমনই আন্তর্জাতিক স্তরে বাজার হারাচ্ছে বাংলার এই নামজাদা পানীয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই নিয়ে সরব হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। দার্জিলিং চায়ের সঙ্গে নেপালের চা মিশিয়ে বিক্রির যে অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে শোনা যাচ্ছে, চায়ের গুণমান যাচাইয়ের মাধ্যমে তা প্রমাণ করার তেমন কোনো কৌশল ছিল না। এবার তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করার পথে বড়ো সাফল্য পেলেন গবেষকরা।
টি রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের (টিআরএ) বিজ্ঞানীরা দার্জিলিং চায়ের নিজস্বতা অক্ষুণ্ণ রাখার ক্ষেত্রে এক নয়া পদ্ধতি আবিষ্কারের দাবি করেছেন। গবেষকরা দার্জিলিংয়ের ৪৫টি বাগান থেকে সংগ্রহ করা খাঁটি নমুনা পরীক্ষা করে মোট ৩৯৭টি উদ্বায়ী ফ্লেভার কম্পাউন্ড (ভিএফসি) শনাক্ত করেছেন। এই যৌগগুলিই দার্জিলিং চায়ের নিজস্ব বিখ্যাত ফ্লেভার বা সুবাসের মূল কারিগর। সংগঠনটির কর্তারা জানিয়েছেন, এই ৩৯৭টির মধ্যে ২০ থেকে ৩০টি যৌগ দার্জিলিং এবং নেপালের চায়ের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কিছু যৌগ কেবল দার্জিলিং চায়ের মধ্যেই রয়েছে, যা নেপালের চায়ে নেই। অন্যদিকে, নেপালের চায়ের কিছু বিশেষ যৌগ দার্জিলিংয়ে পাওয়া যায়নি। নিখুঁত ফলাফলের জন্য দার্জিলিং ও নেপাল ছাড়াও অসম, ডুয়ার্স, হিমাচল প্রদেশ, দক্ষিণ ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং আফ্রিকার চায়ের নমুনাও এই গবেষণায় পরীক্ষা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দার্জিলিং চায়ের ইতিমধ্যেই জিয়োগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন (জিআই) তকমা রয়েছে, যা আইনগতভাবে এর পরিচয় সুরক্ষিত করে। কিন্তু তার পরেও বাজারে দার্জিলিংয়ের নামে কম দামি নেপালের চা মিশিয়ে বিক্রির অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। শিল্পমহলের মতে, এই নতুন আবিষ্কার একদিকে যেমন জিআই সার্টিফিকেশন দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, তেমনই একটি শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসাবে কাজ করবে। গবেষকদের দাবি, ভবিষ্যতে ল্যাবে পরীক্ষার মাধ্যমে, কোনো চা আদৌ খাঁটি দার্জিলিং কি না, তা নিশ্চিত করার একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি তৈরির ভিত্তি হিসাবে কাজ করবে এই আবিষ্কার।