নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গ্রীষ্মাবকাশের পর সোমবারই প্রথম স্কুল খুলল রাজ্যজুড়ে। তবে, এবারের স্কুল খোলার বিষয়টি ছিল অন্যান্যবারের চেয়ে আলাদা। এবারই প্রথম জাতীয় সংগীতের আগে গাইতে হয়েছে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম্’। অনেক ছাত্রছাত্রীরই তা মুখস্থ ছিল না। কোথাও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মুখে শুনে আবার কোথাও স্পিকারে শুনে তা গাইল ছাত্রছাত্রীরা। শিক্ষকদের একাংশের দাবি ছিল, সময় বাঁচাতে দুটি স্তবক গাওয়া হোক। তবে, শিক্ষাদপ্তর স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, পুরো স্তোত্রই গাইতে হবে। তবে, এর ফলে রাজ্যগান ‘বাংলা মাটি বাংলার জল’ প্রায় কোনো স্কুলই আর গায়নি। অথচ, স্কুলশিক্ষা দপ্তরের তরফে আবশ্যিকভাবে এই গান গাওয়ার বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে।
মোটামুটি ১০টা ৪০ মিনিটে প্রার্থনা শুরু হয়। তবে, অন্যান্য দিনের চেয়ে এদিনের প্রার্থনা ছিল অনেকটাই দীর্ঘ। যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্য বলেন, ‘জাতীয় স্তোত্র, জাতীয় সংগীতের পরে আমাদের যেকোনো একজনের বাণীপাঠ থাকে। সব মিলিয়ে সময় লেগেছে পাঁচ মিনিটের কিছু বেশি। আমাদের বারান্দায় প্রার্থনা হয়। তবে, গরমের জন্য ওইটুকু সময়ও বারান্দায় দাঁড়াতে সমস্যা হচ্ছে পড়ুয়াদের। তাই আমরা ক্লাসরুমেই এবার থেকে প্রার্থনা করাব। স্পিকার ব্যবহার করা হয় বলে অসুবিধে নেই।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘প্রার্থনার ছবি, ভিডিয়ো তুলে ডিআই অফিসে পাঠাতে হয়েছে। তাই প্রার্থনা চলাকালীন বেশকিছু শিক্ষককে ক্যামেরা নিয়ে ঘোরাঘুরি করতে হয়েছে। জাতীয় স্তোত্র বা সংগীত চলাকালীন এই ঘটনা ঠিক অভিপ্রেত নয়।’
বাগবাজার হরনাথ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কাজি মাসুম আখতার, বিটি রোড গভর্নমেন্ট স্পনসর্ড হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সংঘমিত্রা ভট্টাচার্য জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও পড়ুয়ারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রার্থনায় অংশ নিয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গ প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণাংশু মিশ্র বলেন, ‘অধিকাংশ স্কুলেই প্রার্থনা হয় মাঠে। স্কুলের নিজস্ব গান বা অন্যান্য পাঠ নিয়ে সব মিলিয়ে ১০ মিনিট ধরে প্রার্থনা চলে। জাতীয় স্তোত্রের সুরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই দুটি স্তোত্র গাওয়ার বিধান দিয়েছিলেন। তাঁকে উপেক্ষা করে এতক্ষণ ধরে পড়ুয়াদের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা আমরা সমীচীন বলে মনে করছি না।’