নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নতুন ক্লাসে ওঠার পরীক্ষা চলছে। দুপুরে স্কুলে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময়েই এক ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠল। নাবালিকার বয়স ১৭ বছর। দক্ষিণ বন্দর থানা এলাকার ক্যানেল রোডের বাসিন্দা ওই পড়ুয়া। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে অপহৃতের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
অপহৃত ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ১৭ মার্চ ঘটনাটি ঘটে। বন্দর এলাকারই একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে একাদশ শ্রেণীতে পড়াশোনা করে কিশোরী। ওইদিন ছিল ইংরেজি পরীক্ষা। স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে ইউনিফর্ম পরেই বের হয় নাবালিকা। কিন্তু, স্কুলে পৌঁছয়নি সে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত না হওয়ায়, স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে ফোন যায় তার বাবার কাছে। কিশোরীর বাবা জানিয়েছেন, স্কুলের এক শিক্ষক জানান, মেয়ে পরীক্ষা দিতে যায়নি। এরপরেই আমরা চিন্তায় পড়ে যাই। মেয়ের কাছে কোনও মোবাইল ফোনও ছিল না। তাই ওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। আমরা স্কুলে যাই। কিন্তু, সেখান থেকেও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।’
সেখান থেকে সরাসরি দক্ষিণ বন্দর থানায় গিয়ে নিখোঁজ ডায়েরি করেন বাবা। কিশোরীর বাড়িতে পৌঁছন তদন্তকারীরা। পুলিস সূত্রে খবর, ওই বাড়ির আশপাশের দোকানের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। তাতে কিছু মেলেনি। বাড়ির থেকে কিছুটা দূরে বড় রাস্তায় ইনস্টল করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। সেখানেই নিখোঁজ কেসে প্রথম লিড পায় পুলিস। পরিবারের সদস্যরা বলেন, ‘পুলিস ক্যামেরায় দেখেছে এক যুবক আমাদের মেয়েকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এরপরেই আমরা অপহরণের অভিযোগ করি।’ তার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে দক্ষিণ বন্দর থানা।
কে সেই যুবক? সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকেই যুবকের ছবি বের করে পুলিস। এলাকায় খোঁজ নিতেই স্পষ্ট হয় সেই যুবকের পরিচয়। কলকাতা পুলিসের ডেপুটি কমিশনার (বন্দর) হরিকৃষ্ণ পাই বলেন, অপহৃতের এক আত্মীয় থাকেন কাছেই। সেই বাড়ির পাশেই থাকে যুবক। তার ফোন নম্বর ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। সেটির সাহায্যেই ট্র্যাক করা হচ্ছে লোকেশন। সূত্রের খবর, ওই যুবকের ফোন বন্ধ রয়েছে। ওই যুবক এবং নাবলিকার মধ্যে কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তাও পুলিসের স্ক্যানারে। পরিবারের সদস্যদের কথায়, ৯ দিন পার হয়ে গেলেও এখনও মেয়ের কোনও খোঁজখবর দিতে পারছে না পুলিস। আমরা অত্যন্ত আশঙ্কায় রয়েছি।