Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সামশেরগঞ্জে নাগরদোলায় চুল জড়িয়ে স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

গ্রামীণ মেলায় এসে নাগরদোলায় উঠেছিল পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। সেই নাগরদোলার স্ট্যান্ডে চুল জড়িয়ে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হল।

সামশেরগঞ্জে নাগরদোলায় চুল জড়িয়ে স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু
  • ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৯:১২
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: গ্রামীণ মেলায় এসে নাগরদোলায় উঠেছিল পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। সেই নাগরদোলার স্ট্যান্ডে চুল জড়িয়ে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হল। শুক্রবার সন্ধ্যায় সামশেরগঞ্জের লালপুরে এঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। মৃতার নাম আসনির খাতুন(১২)। বাড়ি ধুলিয়ানের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের লালপুরে। পুলিশ দেহ ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

Advertisement


পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে লালপুরের মাঠে ধর্মীয় জলসা চলছিল। সেই জলসা উপলক্ষ্যে গ্রামীণ মেলা বসেছিল। সেখানে ছোটদের মনোরঞ্জনের জন্য নাগরদোলা ছিল। সেই নাগরদোলায় ওঠার পর আসনিরের চুল স্ট্যান্ডে জড়িয়ে যায়। ফলে নাগরদোলা ঘুরতে শুরু করলে স্ট্যান্ডের সঙ্গে জড়ানো চুলের টানে মেয়েটি প্রচণ্ড জোরে ছিটকে নীচে এসে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে অনুপনগর হাসপাতালে ভর্তি করলে পরে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বালিকার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মেলা কমিটির আয়োজনে গাফিলতি ছিল। শনিবার দুপুর পর্যন্ত ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে পদক্ষেপ করা হবে।
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই লালপুর মাঠে জলসা শুরু হয়। জলসা শুনতে আশপাশের এলাকার বহু ধর্মপ্রাণ মানুষ হাজির হয়েছিল। জলসা ঘিরে গ্রামীণ মেলায় বেশ কিছু স্টল ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পসরা ছিল। মেলার এক প্রান্তে একটি নাগরদোলা বসানো হয়। স্থানীয় বালক-বালিকারা সেই নাগরদোলায় চড়ছিল। সন্ধ্যায় আসনির খাতুন বন্ধুদের সঙ্গে নাগরদোলায় ওঠে। কিন্তু নাগরদোলা ঘুরতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে আসনিরের চুল সেটির স্ট্যান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। আতঙ্কিত আসনির বারবার নাগরদোলা থামানোর অনুরোধ করে। কিন্তু, মেলার ভিড়ে চিৎকার-চেঁচামেচির কারণে প্রথমে তা কেউ শুনতে পায়নি। নাগরদোলা দ্রুতগতিতে ঘুরতে শুরু করলে স্ট্যান্ডে জড়ানো চুলের হ্যাঁচকা টানে আসনির প্রচণ্ড জোরে মাটিতে আছাড় খেয়ে পড়ে। তার মাথার বেশ কিছু চুল উপড়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি। এঘটনার পরই মেলা ছেড়ে পালিয়ে যায় নাগরদোলার মালিক।


মৃতার দাদা সাবির শেখ বলেন, বোন নাগরদোলায় চেপেছিল। তাতে চুল জড়িয়ে গেলে ও চিৎকার করে থামাতে বলে। তবু ওরা থামায়নি। একসময় বোন নীচে পড়ে যায়। কীভাবে কী হয়ে গেল-এখনও বুঝে উঠতে পারছি না। ওখানে মেলা করার কোনও অনুমতি ছিল না। 
 নাবালিকার মৃত্যুর পর এলাকাবাসীর জটলা। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ