Bartaman Logo
২৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘাটালে তৃণমূলের কার্যালয় থেকে বস্তাবন্দি স্কুল ড্রেস উদ্ধার, চাঞ্চল্য

ঘাটাল মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় আগেও শাসকদলের নেতাদের বাড়ি, দলীয় কার্যালয় কিংবা সজল ধারা প্রকল্পের ঘর থেকে সরকারি সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।

ঘাটালে তৃণমূলের কার্যালয় থেকে বস্তাবন্দি স্কুল ড্রেস উদ্ধার, চাঞ্চল্য
  • ২৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় আগেও শাসকদলের নেতাদের বাড়ি, দলীয় কার্যালয় কিংবা সজল ধারা প্রকল্পের ঘর থেকে সরকারি সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। কখনও ত্রাণের ত্রিপল তো কখনও ওষুধ, আবার কখনও রান্নার সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অব্যবহৃত ঘর থেকে। তবে এবার অতীতের সব ঘটনাকে ছাপিয়ে গেল ঘাটাল ব্লকের রাধানগর। বুধবার রাধানগরে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় থেকে বস্তাভরতি সরকারি স্কুল ড্রেস এবং বেশ কয়েকটি জন্ম নিরোধক উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল ছড়িয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাধানগরের ওই দলীয় কার্যালয়টি সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ভোট গণনার দিন থেকেই তালাবন্ধ অবস্থায় পড়েছিল। দিনের পর দিন সেটি বন্ধ থাকায় এবং ভিতরে বেআইনি কিছু মজুত থাকার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মনে সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে। কার্যালয়ের চাবি সাধারণত পাশের একটি দোকানে রাখা থাকত। কিন্তু বুধবার এলাকার মানুষ যখন সেটি খুলে দেখার সিদ্ধান্ত নেন, তখন চাবিটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
চাবি না পেয়ে স্থানীয়রা একপ্রকার বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক হ্যান্ড করাত নিয়ে আসেন কার্যালয়ের তালা কাটার জন্য। তবে তালা কাটার আগে স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য বিজয় মাণ্ডিকে ডেকে আনা হয়। তাঁর উপস্থিতিতেই মূল দরজার তালা কাটা হয়। দরজা খোলার পর ভিতরে বেশ কয়েকটি বড়ো বস্তা দেখতে পান স্থানীয়রা। তখন উপস্থিত ক্ষুব্ধ মানুষ তৃণমূল নেতা বিজয়বাবুকেই বস্তাগুলি বাইরে বের করে আনতে বাধ্য করান।
জনতার চাপে ওই নেতা পরপর তিনটি বস্তা বাইরে বের করে আনেন। প্রথম বস্তা খুলতেই দেখা যায়, তার ভিতরে রয়েছে তৃণমূলের দলীয় পতাকা। এরপর বাকি দু’টি বস্তা খুলতেই বেরিয়ে আসে স্কুল পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ বহু স্কুল ইউনিফর্ম। শুধু তাই নয়, স্থানীয়রা তল্লাশি চালানোর সময় ওই কার্যালয়ের ভিতর থেকেই বেশ কয়েকটি জন্ম নিরোধক উদ্ধার হয়। রাজনৈতিক দলের কার্যালয় থেকে এই সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় তুমুল শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। ঘটনার পর অস্বস্তিতে পড়ে তৃণমূল নেতা বিজয় মাণ্ডির সাফাই, বস্তাগুলি অনেক দিন ধরেই দলীয় কার্যালয়ে মজুত করা ছিল। এর আগে বস্তাগুলি থেকে কিছু পোশাক এলাকার স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে বিলিও করা হয়েছে। তবে বিজয়বাবুর এই সাফাই মানতে নারাজ স্থানীয়রা। এলাকার বাসিন্দা বাপি দাস, আদরী দাস, মমতা মল্লিকরা ক্ষোভ উগরে অভিযোগ করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তাণ্ডব চালিয়েছে শাসকদল। এমনকী, ভোটের আগের দিন সাধারণ মানুষকে ছুরি দেখিয়ে রীতিমতো শাসিয়েছিল স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। হুমকি দিয়ে বলা হয়েছিল, শাসকদলকে ভোট না দিলে তাঁদের শেষ করে দেওয়া হবে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ