সংবাদদাতা, বোলপুর: লাগাতার বৃষ্টির জেরে কুয়ে নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে। লাভপুর ব্লকের ঠিবা পঞ্চায়েতের কাঁদরকুলো, হরিপুর, জয়চন্দ্রপুর, বলরামপুর সহ একাধিক গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। জল বাড়তে থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে একাধিক রাস্তায় চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় কুয়ে নদীর পাশেই থাকা কুরুন্নাহার উচ্চ বিদ্যালয়ে পঠনপাঠনে সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যালয়ে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ইউনিট টেস্ট চলছিল। কিন্তু নদীর জল বাড়ায় ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে যেতে সমস্যা হচ্ছে। সেকারণে পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হল স্কুল কর্তৃপক্ষ।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১১০০জন। তার মধ্যে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির ইউনিট টেস্ট শুরু হয়েছিল দিনকয়েক আগে। তিনটি পরীক্ষা হওয়ার পরই প্রাকৃতিক বিপর্যয় শুরু হয়। এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, বন্যার কারণে আপাতত পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তীকালে পরীক্ষার নতুন তারিখ জানানো হবে। আজ, মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শুরু হবে। এছাড়া মিড ডে মিল রান্না হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যাদের স্কুলে আসতে অসুবিধা হবে না তারা আসবে, বাকিরা বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আসবে।
বিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তে অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এলাকা জলমগ্ন থাকায় স্কুল কবে স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রশাসনের তরফে দ্রুত জল বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা না করা হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও বিঘ্নিত হবে। স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী রিম্পা মণ্ডল বলে, এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির কারণে ক্লাসের পরীক্ষা স্থগিত করার কথা জানিয়েছেন শিক্ষকরা। জল বেড়ে যাওয়ার কারণে যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সেই কারণেই স্কুল কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পার্থপ্রতিম রায় বলেন, এলাকায় বন্যার জল অত্যধিক বেড়ে যাওয়ার কারণে খাঁপুর, জয়চন্দ্রপুর, বলরামপুর প্রভৃতি জায়গা থেকে পড়ুয়ারা স্কুলে আসতে পারছে না। কাঁদরকুলা সেতু এই মুহূর্তে জলের তলায়। ফলে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে নৌকায় পারাপার সম্ভব নয় বলেই পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির ইউনিট টেস্ট স্থগিত করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির উপর কবে পরীক্ষা নেওয়া হবে তা ঠিক হবে। তবে ক্লাস ও মিড ডে মিল যেমন চালু ছিল তেমনই চলবে। - নিজস্ব চিত্র