Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিক্ষিকার সই জাল করে স্কুলের তহবিল নয়ছয়! সার্কেল অফিসে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মালদহের গাজোল সার্কেলের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকার সই জাল করে মিড ডে মিল এবং কম্পোজিট গ্রান্টের টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠল খোদ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

শিক্ষিকার সই জাল করে স্কুলের তহবিল নয়ছয়! সার্কেল অফিসে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ
  • ১২ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: মালদহের গাজোল সার্কেলের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকার সই জাল করে মিড ডে মিল এবং কম্পোজিট গ্রান্টের টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠল খোদ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

Advertisement

এই ঘটনায় ওই সহ শিক্ষিকা স্থানীয় সার্কেল অফিসে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়ে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট স্কুল এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ওই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ১৩২জন। শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন চার-পাঁচজন। টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোরগোল শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তরফে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এমনকী অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন গাজোলের বিডিও। 
নিয়ম অনুযায়ী,স্কুলের মিড ডে মিল সহ অন্য কোনো গ্রান্টের জন্য টাকা তোলা সহ বিভিন্ন কাজের জন্য দু’জন বা তার বেশি শিক্ষক প্রতিনিধি থাকেন। প্রতিনিধির সই ছাড়া কাজ হয় না। স্কুলের ওই কাজের জন্য জয়েন্ট অপারেটরের দায়িত্বে ছিলেন অভিযোগকারী সহ শিক্ষিকা। সার্কেলকে দেওয়া অভিযোগে ওই শিক্ষিকা উল্লেখ করেছেন, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে তিনি লক্ষ্য করেন প্রধান শিক্ষক মিড ডে মিল এবং কম্পোজিট ফান্ডের কোনো চেকেই তাঁর সই নিচ্ছেন না। রাঁধুনিদের বিলের চেকে সই নিচ্ছেন। সহকর্মীদের বিষয়টি জানান তিনি। সেপ্টেম্বরেও তাঁর সই করানো হয়নি। এরপর ওই প্রধান শিক্ষককে ব্যাংকের পাসবই আপডেট করতে বলা হয়। কিন্তু তিনি টালবাহানা করতে থাকেন। শেষে ২৭ এপ্রিল তিনি ব্যাংকের পাসবুক আপডেট করলে লক্ষ্য করেন ওই অ্যাকউন্ট থেকে টাকা তোলা হয়েছে। ওই শিক্ষিকার অভিযোগ, অমি তো চেকে সই করেনি। তার মানে প্রধানশিক্ষক আমার সই জাল করে টাকা তুলেছেন। 
সোমবার ওই সহকারী শিক্ষিকা বলেন,পুরো বিষয়টি অবর বিদ্যালয় পরিদর্শককে জানিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা না বলে এখনই বিস্তারিত কিছু বলব না। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে সরাসরি অভিযোগের  বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু তিনি এড়িয়ে যান। শুধু বলেন, সমস্যা হয়েছিল। অভিযোগও গিয়েছে। একটু ব্যস্ত রয়েছি, পরে কথা বলব। পরে তাঁকে দু’বার ফোন করা হলেও ধরেননি। এমনকী মেসেজেরও জবাব দেননি ওই প্রধানশিক্ষক।
গাজোল সার্কেলের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রশান্ত রায় বলেন, ওই শিক্ষিকার সই জাল করে টাকা তুলে নেওয়ার লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। গাজোলের বিডিও সুমন ঘোষ বলেন, বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেব। ওই অভিযোগের তদন্ত করা হবে। যদি দোষ প্রমাণ হয়, তাহলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ