নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিল্লি হাইকোর্ট এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের শিক্ষা দিতে হবে সাধারণ স্কুলেই। এর জন্য সাধারণ স্কুলে স্পেশাল এডুকেটর নিয়োগ এবং অন্যান্য পরিকাঠামো রাখার কথাও বলা হয়েছে। স্কুলশিক্ষা দপ্তরের অধীন রাজ্য সমগ্র শিক্ষা মিশন এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে এ নিয়ে তৈরি হচ্ছে বিশেষ রোডম্যাপ। ইনক্লুসিভ এডুকেশন অর্থাৎ অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার জন্য মঙ্গলবার থেকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের ভিতর একটি হোটেলে শুরু হল তিনদিনের বিশেষ কর্মশালা। তাতে স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন, প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী, এনসিইআরটি, এসসিইআরটি এবং মিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিনের কর্মশালায় বিশেষভাবে সক্ষম শিশু, তাদের অভিভাবক এবং শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এ ধরনের শিশুরা সাধারণ স্কুলেই পড়াশোনা করতে পারে। তারপর থেকেই শুরু হয় সমস্যা। কোথাও শিক্ষকের অভাব। আবার কোথাও পরিকাঠামোর অভাব। তাই সচ্ছল অভিভাবকরা সন্তানদের এ ধরনের সুবিধাযুক্ত বেসরকারি স্কুলে ভরতি করেন। তবে, যাঁরা তা পারেন না, তাঁরাই পড়েন সমস্যায়। কৌশিক চৌধুরী বলেন, ‘অষ্টম শ্রেণির পর থেকে এ ধরনের শিশুদের বড়ো অংশ স্কুলছুট হয়ে পড়ছে। মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থায় তাদের রাখা যাচ্ছে না। সে কারণে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, তাদের ভালো লাগার উপকরণ, যোগ্য শিক্ষক সবকিছুই সাধারণ স্কুলে রাখা হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘এই সব শিশুদের প্রতি আমাদের মানসিকতা বদলাতে হবে। আমাদের আরও যত্নশীল এবং সংবেদনশীল হতে হবে।’ তিনদিনের এই ওয়ার্কশপে হাঁটাচলা, শোনা, কথা বলা বা দেখা, যে শিশুর যেমন সমস্যা, তাদের সেইভাবে সাহায্য করে মূলধারার শিক্ষায় যুক্ত করার কাজ চলবে।