


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সরস্বতী পুজোর দিনে ‘কেউকেটা’ সাজতে গিয়েছিল অশোকনগরের স্কুলছুট এক ১৬ বছরের কিশোর। কিন্তু পুরো বিষয়টি শেষে ‘বুমেরাং’ হয়ে যায় তার জন্য। বাউন্সার সহ গাড়ির চালকদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, বাউন্সার ভাড়া করার সময় সংশ্লিষ্ট এজেন্সির কাছে নিজেকে নয়, আয়কর দপ্তরের অফিসার হিসেবে বাবার নাম করেছিল কিশোর। বলেছিল, সে শুধু দু’টি স্কুলে সরস্বতী ঠাকুর দেখবে। তারপর নেমে যাবে। বাবা গাড়িতে উঠবেন। তাঁর নিরাপত্তার জন্যই বাউন্সার থাকবে। বাউন্সার ও চারটি গাড়ি ভাড়ার জন্য ওই কিশোর অনলাইনে ১৮ হাজার টাকাও পেমেন্ট করেছিল।
সরস্বতী পুজোর দিনে ভাড়া করা চারটির মধ্যে নীলবাতি লাগানো গাড়িটিতে ছিল ওই কিশোর। শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত গাড়ি ভাড়া করেছিল সে। অশোকনগরের একটি এজেন্সির কাছে থেকে অনলাইনে ১০জন বাউন্সারও ভাড়া করে। নীলবাতি লাগানো গাড়ি ও চারদিকে বাউন্সার বেষ্টিত হয়ে সরস্বতী পুজোর দিন প্রথমে নিজের পুরনো স্কুলে গিয়েছিল কিশোর। শিক্ষকদের কাছে নিজেকে আয়কর দপ্তরের অফিসার পরিচয় দিয়েছিল। এরপর অন্য একটি স্কুলে গিয়ে একই পরিচয় দেয়। কিন্তু তার হাবভাবে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সন্দেহ হওয়ায় পুলিশে খবর দেন তিনি। তখনই ১৬ বছরের ওই কিশোরের কীর্তি প্রকাশ্যে আসে।
আটক হওয়া এক বাউন্সার মুজাফ্ফর মল্লিক বলেন, একজন আয়কর দপ্তরের অফিসারকে নিরাপত্তা দিতে হবে বলেই বুকিং কল এসেছিল। সেই অনুযায়ী আমরা আসি অস্ত্র নিয়ে। ছেলেটি বলেছিল, আমার বাবা ইনকাম ট্যাক্সের অফিসার। তার জন্য সিকিউরিটি লাগবে। আমি শুধু দুটি স্কুলে গিয়ে ঠাকুর দেখে ফিরে আসব। পরে বাবা যাবেন। পরবর্তীতে জানতে পারি, এটা প্রতারণা। কর্মজীবনে এমন পরিস্থিতির সামনে আগে হইনি।
গাড়ির চালক জয় কুণ্ডু বলেন, আমরা গাড়ি চালাই। মালিকের নির্দেশে ডিউটি করি। গাড়ি ভাড়া ছিল সকাল এগারোটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। তার আগেই ওই কিশোরের কাণ্ড-কারখানা সামনে চলে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, নিজের কিছু জমানো টাকা ছিল। আর কিছু টাকা সে বাবা-মায়ের কাছ থেকে নিয়েছিল। মোট ১৮ হাজার টাকা অনলাইনে পেমেন্ট করেছিল কিশোর।