নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি ইউনিটের সভাপতি নিখিল দাসের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় রিপোর্ট চেয়ে পাঠাল জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশন। মঙ্গলবার এই চিঠি এসেছে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের দপ্তরে। কপি পাঠানো হয়েছে কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দার দপ্তরেও। সাতদিনের মধ্যে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। এদিনই উপাচার্য ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে খোলা চিঠিতে আবেদন জানিয়েছেন, দেওয়ালে যেন দেশবিরোধী স্লোগান লেখা না হয়। আর, দেওয়ালে দেওয়ালে স্লোগান লেখা, ছবি আঁকার পরিবর্তে যেন তাঁরা একটি নির্দিষ্ট জায়গা ব্যবহার করেন। যদিও মঙ্গলবার সারাদিনই বিভিন্ন জায়গায় দেওয়াল চিত্র এবং দেওয়াল লিখনের কাজ চলেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ১৯ আগস্ট রাতে। ইউনিয়ন না-থাকা সত্ত্বেও ইউনিয়নের নামে জেনারেল বডির মিটিং কেন ডাকা হবে, এই প্রশ্ন তুলে প্রতিবাদ করেছিলেন তফসিলি জাতির গবেষক নিখিল। তাতে ছাত্রছাত্রীদের একাংশ তাঁর উপর চড়াও হয়ে তাঁকে মারধর করে বলে অভিযোগ। পড়ুয়ারাও পালটা আক্রমণের অভিযোগ তোলে। এর পরেই মধ্যরাতের পরে বহিরাগতরা তাণ্ডব চালায় ক্যাম্পাসে। প্রতিবাদ, পালটা প্রতিবাদে উত্তাল হয় ক্যাম্পাস এবং আশপাশের রাস্তা। ২২ আগস্ট নিখিল লিখিত অভিযোগ জানান কমিশনে। তার ভিত্তিতেই এই রিপোর্ট তলব। প্রসঙ্গত, এই ঘটনায় আগেই একটি জুডিশিয়ারি এনকোয়ারি কমিশন গঠন করেছে যাদবপুর কর্তৃপক্ষ। তাতে এদিন যুক্ত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও সেশন বিচারক সমরেশ প্রসাদ চৌধুরী। আগে থেকেই কমিটিতে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা আইকিউএসি অধিকর্তা সৌমেন্দু চট্টোপাধ্যায় এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রো অ্যানালিস্ট সুমন্ত জানা।
এদিন উপাচার্য আবেদন জানিয়েছেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসায় একটা ভারসাম্য আনতে হবে। এর জন্য সবারই এগিয়ে আসা উচিত। দেওয়ালে, গেটে, ভবনের ভিতরে যাতে দেওয়াল চিত্র আঁকা না-হয়, সেটাও সবাইকে দেখতে হবে। নির্দিষ্ট জায়গায় লেখা হলেও জাতীয় ঐক্য, মূল্যবোধ বা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আঘাত করে, এমন কোনো বার্তা যেন না থাকে।