সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বোর্ড ও নীলবাতি লাগিয়ে ঝাড়খণ্ডে যাওয়ার পথে রামপুরহাট থানার পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হল তিন যুবক। যার মধ্যে গাড়ির চালকও রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা নাগাদ রামপুরহাট-ঝাড়খণ্ড সীমানা সুরিচুঁয়ার কাছে নাকা চেকিং চলাকালীন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতরা কেউই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে চাকরি করে, এমন কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেনি। তবে তাদের কাছ থেকে বেশকিছু ভুয়ো ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করেছে পুলিস। এদিন ধৃতদের বিরুদ্ধে বিএনএস অ্যাক্টের একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারা যুক্ত করে রামপুরহাট আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী সৈকত হাটি বলেন, ধৃতদের তিনদিন নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানানো হয়। বিচারক তিনদিন পুলিস হেফাজত মঞ্জুর করেছেন।
Advertisement
নতুন জেলা পুলিস সুপারের নির্দেশে ঝাড়খণ্ড সীমানায় নাকা চেকিংয়ে তৎপরতা বেড়েছে। এদিন ভোর থেকেই রামপুরহাটের ঝাড়খণ্ড সীমানা সুরিচুঁয়া মোড়ে বিশেষ অভিযানে নামে পুলিস। রামপুরহাটের দিক থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বোর্ড ও নীলবাতি লাগানো গাড়ি আসতে দেখে সন্দেহ হয় পুলিসের। মূলত বড়সড় পদে রয়েছেন এমন সরকারি আধিকারিক নীলবাতি ব্যবহার করেন। তাঁদের যাত্রাপথ সম্পর্কে পুলিসকে আগাম জানানো হয়। এক্ষেত্রে সেটা জানানো হয়নি। গাড়িটিকে আটকায় পুলিস। তারা দেখে গাড়ির পিছনের সিটে দুই যুবক বসে । জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকের কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেনি। এরপরই পুলিস তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতরা হল, কলকাতার নেতাজি নগরের পল্লিশ্রীর বাসিন্দা দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, হাওড়ার অশোক আগরওয়াল ও কলকাতার টালিগঞ্জের এনএসসি বোস রোডের বাসিন্দা অনিকেত দে। দেবাশিস গাড়ির চালক। পুলিস জানিয়েছে, অনিকেতের কাছ থেকে তার নামের একটি ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার হয়েছে। তাতে লেখা, ‘ন্যাশনাল এমব্লেম অ্যান্ড দি টপ মেম্বার মনিটারিং কমিটি নর্থ ইস্ট ডিভিশন মিনিস্টারি অব হোম অ্যাফিয়ার্স গভর্মেন্ট অব ইন্ডিয়া। অশোকের নামে এমব্লেম অ্যান্ড দি টপ মেম্বার হিন্দি কমিটি, ডিপার্টমেন্ট অব অফিসিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ মিনিস্টারি অব হোম অ্যাফিয়ার্স। পুলিসের দাবি, এগুলি সবই ভুয়ো।



