Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

সবুজ-মেরুনই সমরবাবুর বেঁচে থাকার অক্সিজেন

সবুজ-মেরুনই সমরবাবুর বেঁচে থাকার অক্সিজেন
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাতে লাগানো অসংখ্য নল। পাশের ছোট্ট টেবিলে ডাঁই করে রাখা সিরিঞ্জ ও ওষুধ। মনিটরের ‘বিপ’ শব্দে আতঙ্কের আনাগোনা। এমনকী, কাজ করছে না ভোকাল কর্ড। দুরারোগ্য অসুখে দড়ি পাকিয়েছে শরীর। দিন-রাতের পার্থক্যও ভুলতে বসেছেন। রাতজাগা অসহায় পরিবারে একরাশ উদ্বেগ। চিকিৎসকরা লড়ছেন সাধ্যমতো। কিন্তু যুদ্ধ যে বড়ই কঠিন।  জীবনের গোধূলিতে মোহন বাগানই বৃদ্ধের বেঁচে থাকার অক্সিজেন। প্রিয় ক্লাবের নাম শুনলে ঝাপসা চোখের তারায় চলকে ওঠে আলো।
Advertisement
শ্যামনগরের সমর কুমার চাকী (৬৮) পাঁড় মোহন বাগানী। জীবনের রং সবুজ-মেরুন। স্ত্রী গত হয়েছেন অনেকদিন। তারপর আরও বেশি করে আঁকড়ে ধরেন মোহন বাগানকে। ছেলে সৌমেনের সঙ্গেই নিয়মিত আসতেন মাঠে। গ্যালারিতে বসেই হাত ঠেকাতেন কপালে। একদিন প্রবল ঝড়ে সব তছনছ। বোঝা যায়নি ঘুণপোকার মতো বাসা বেঁধেছে দুরারোগ্য অসুখ। গত ৩০ জানুয়ারি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন সমরবাবু। ডাক্তার সোহম কুমার ঘোষের চেষ্টার ত্রুটি নেই। এরমাঝেই  শনিবার সকালে হঠাৎই অবস্থার অবনতি। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসে পরিবার। বাকিটা বোধহয় সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানায়। মোহন বাগানের খেলা কবে? ইশারায় ছেলের কাছে জানতে চান অসুস্থ সমরবাবু। তারপর বাচ্চা ছেলের মতো খেলা দেখার আবদার। অগত্যা ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে মুঠোফোনে মিনি ডার্বি দেখার বন্দোবস্ত করেন সৌমেন। ম্যাচ চলাকালীন একবারও মোবাইল থেকে চোখ সরাননি তিনি। শুভাশিস আর মনবীরের গোলের পর শীর্ণ হাতে ছেলের আঙুল জড়িয়ে ধরেন বাবা। ফিসফিসিয়ে সৌমেন বলে ওঠেন ‘জয় মোহন বাগান।’ সমরবাবুর গাল বেয়ে তখন নামে আনন্দাশ্রু। চোখের জলের হয় না কোনও রং। তেমনটা হলে হয়তো হাসপাতালের বালিশেও ফুটে উঠত সবুজ-মেরুন অনুরাগের কাহিনি!
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ