


লন্ডন: অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফিতে মোট ১৮৫.৩ ওভার বল করেছেন মহম্মদ সিরাজ। পাঁচ টেস্টে সব মিলিয়ে যা ১,১১৩ ডেলিভারি। নো-বল এবং ওয়াইড ধরলে সংখ্যাটা ১,১২২। এবং সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল শেষ ডেলিভারিটাও ছিল ঘণ্টায় ১৪৩ কিমি গতির ইয়র্কার। যা অ্যাটকিনসনের ব্যাটের নাগাল এড়িয়ে আঘাত হানে অফস্টাম্পে। সিরিজ জুড়ে অক্লান্ত থাকা সিরাজ প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন ‘ওয়ার্কলোড’ ম্যানেজমেন্টের তত্ত্বকেই। কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকর তো তেমনই মনে করছেন।
ওভালের নায়ক সিরাজের প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত সানি বলেছেন, ‘আশা করব, ওয়ার্কলোড শব্দটা ভারতীয় ক্রিকেটের অভিধান থেকে এবার বিদায় নেবে। দীর্ঘদিন ধরে এটাই বলে আসছি। আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে যে ওয়ার্কলোড ব্যাপারটা পুরোপুরি মানসিক। এর সঙ্গে ক্লান্তির তেমন কোনও যোগাযোগ নেই। তাই ওয়ার্কলোডকে বড় সমস্যা মানলে কখনওই দেশের হয়ে খেলার জন্য সেরা দল বেছে নেওয়া যাবে না।’
সীমান্তে প্রহরারত জওয়ানদের কষ্টের কথা এই প্রসঙ্গে টেনে এনেছেন গাভাসকর। ‘লিটল মাস্টার’ বলেছেন, ‘দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সময় টুকটাক ব্যথা ও যন্ত্রণাকে ভুলতে হবে। সৈন্যরা তো কখনও অভিযোগ করেন না প্রবল ঠান্ডা নিয়ে। ঋষভ পন্থের থেকে আমরা কী শিখলাম? পায়ে চিড় নিয়েও ব্যাট করতে নেমেছিল ও। ক্রিকেটারদের থেকে এটাই তো প্রত্যাশিত। দেশের প্রতিনিধিত্ব করা মস্ত বড় সম্মানের।’
সিরাজের প্রসঙ্গে ৭৬ বছর বয়সি বলেন, ‘১৪০ কোটি মানুষের জন্য খেলাটা কী গর্বের তা ওকে দেখলেই বোঝা যায়। ও হৃদয় উজাড় করে দিয়েছে প্রতিটা ডেলিভারিতে। আর ওয়ার্কলোড ব্যাপারটাকেও গুরুত্বহীন প্রমাণ করেছে। পাঁচটা টেস্ট ধরে লাগাতার ও ৭-৮ ওভারের স্পেল করে গিয়েছে। কারণ ক্যাপ্টেন ওর উপর ভরসা রেখেছে। গোটা দেশ ওর থেকে উইকেট আশা করেছে।’ তবে যশপ্রীত বুমরাহর উদ্দেশে যে তিনি তোপ দাগছেন না, তা বুঝিয়েছেন গাভাসকর। তাঁর মতে, বুমরাহর ব্যাপারটা ‘ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট’ বা চোট এড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।