নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছোট্ট উমার মুখে কথা ফোটেনি এখনও। আধো আধো বোলে আঁকড়ে ধরে মায়ের কোল। ওর নিশ্চিন্ত আশ্রয়। এদিন রাজডাঙা নবউদয় সংঘের মণ্ডপে হাজির হয়ে উমার কথাই মনে পড়ল অস্কার ব্রুজোঁর। ইস্ট বেঙ্গলের স্প্যানিশ কোচের ছোট্ট মেয়ের নামও যে উমা। পুজোর পালস অস্কারের কাছে নতুন নয়। ভারতে স্পোর্টিং ক্লুব দ্য গোয়ায় দীর্ঘদিন কোচিং করিয়েছেন তিনি। পদ্মাপারের বসুন্ধরা কিংসও ঠিকানা ছিল ব্রুজোঁর। স্ত্রী ইরার সঙ্গে আলোচনার পরেই স্থির করেন, ভারতীয় নামেই সন্তানের নামকরণ করবেন। এদিন অস্কার হেসে বললেন, ‘আমার মেয়ের নাম উমা। কন্যার মতো দুর্গাপুজোও আমার হৃদয়ে।’ পাশে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছেন মিগুয়েল-সাউলরা। দিন গড়ানোর সঙ্গেই বড় হবে ছোট্ট উমা। হয়তো বাবার সঙ্গে ঘুরে দেখবে পুজোর মণ্ডপ। উৎসবের আলোয় মিশে যাবে স্পেন ও কলকাতার দূরত্ব।
আলোয় ভাসছে কলকাতা। দুপুরের পরেই মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়। উৎসবের শুরু। দুর্গাপুজোর মতো ফুটবলও বাংলার আরেক উৎসব। আটার দুর্গা গড়ে এবার চমক দেখিয়েছে রাজডাঙা নবউদয় সংঘ। এদিন ইস্ট বেঙ্গলের বিদেশি ফুটবলাররা তা দেখে অবাক। সাউল ক্রেসপো, মিগুয়েল, কেভিন সিবলেরা বাজালেন ঢাক। ফুটবলারদের ফুরফুরে মেজাজ দেখে অস্কার ব্রুজোঁর মুখে চওড়া হাসি। লাল-হলুদ সমর্থকদের পুজোর শুভেচ্ছা জানালেন মিগুয়েলও। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের মন্তব্য, ‘সমর্থকরাই দলের প্রাণ। প্রতি ম্যাচেই উদ্বুদ্ধ করেন গ্যালারি থেকে। সবাইকে পুজোর শুভেচ্ছা জানাই।’
এদিকে, পুজোর পরেই আইএফএ শিল্ডের আসর। মোহন বাগান সম্মতি জানানোয় রাতারাতি উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। শিল্ডের আগে গোটা দলকে ফিট করতে মরিয়া অস্কার। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহে কলকাতায় আসছেন জাপানি স্ট্রাইকার হিরোশি। পূর্ণশক্তির স্কোয়াড নিয়েই আইএফএ শিল্ডে নামতে চাইছেন অস্কার ব্রুজোঁ। একমাত্র লালচুংনুঙ্গা বাদে সবাই ফিট।