কলম্বো: রবিবার ডাক পেয়েছিলেন টেস্ট স্কোয়াডে। একদিনের মধ্যেই দ্বীপরাষ্ট্রে পৌঁছে গিয়ে অনুশীলনে নেমে পড়লেন সরফরাজ খান। শুভেচ্ছা ও উচ্ছ্বাসের মধ্যে দিয়ে মুম্বইকরকে স্বাগত জানান সতীর্থরা। এই পর্ব মিটতেই কড়া রোদে শুরু হয় টেস্টের প্রস্তুতি। প্রধানত স্পিন সামলানোতেই থাকে ফোকাস। রবীন্দ্র জাদেজা, কুলদীপ যাদব, মানব সুথার ও সারাংশ জৈন— চার স্পিনারই লাগাতার হাত ঘোরান। পেসার হিসেবে একাই এসেছিলেন আকিব নবি। তিনদিনের ম্যাচের পর বিশ্রাম দেওয়া হয় মহম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা ও গুরনুর ব্রারকে।
এনসিসি’র এই মাঠেই তিনদিন ধরে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল ভারত। সোমবারের বাইশ গজকে তাই দেখাচ্ছিল আদর্শ চতুর্থ দিনের পিচ। একেবারে শুকনো, কয়েক জায়গায় ফাটল। শুধু একদিক থেকেই ব্যাট করছিলেন ভারতীয়রা। ফলে ক্রমশ কঠিন হচ্ছিল ব্যাটারদের কাজ। পুরানো, নতুন ও সদ্যনতুন— তিন ধরনের বল ব্যবহারে চ্যালেঞ্জ বাড়ছিল শুভমান গিল ব্রিগেডের। যাতে রিভার্স সুইং সামলানো যায়, নজর দেওয়া হয় সেদিকে। তবে নেটে পেসারের অভাবের জন্য থ্রো-ডাউন বিশেষজ্ঞের সামনে লম্বা নকিং করেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন। নেটে স্বচ্ছন্দেই দেখায় গিলকে। বেশ কয়েকটি দুরন্ত কভার ড্রাইভ মারেন তিনি।
ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের অধিকাংশই অবশ্য শুরুতে পিচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ায় জোর দেন। স্পিনের বিরুদ্ধে পায়ের ব্যবহার, জমাট রক্ষণ, সুইপ ও রিভার্স সুইপ মারতে থাকেন তাঁরা। এই প্রেক্ষিতেই সরফরাজের দলে আসা তাৎপর্যের। ১৭ কেজি ওজন কমিয়ে ফেরা মিডল অর্ডার ব্যাটারের স্পিনের বিরুদ্ধে দক্ষতা প্রশ্নাতীত। রকমারি শট হাতে তো আছেই, সুইপেও রয়েছে নিয়ন্ত্রণ। ধ্রুব জুরেলকে স্পিনের বিরুদ্ধে ইদানীং নড়বড়ে লাগছে। সেই কারণেই সরফরাজের টেস্ট সিরিজে খেলার সম্ভাবনা বাড়ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজে অফস্পিনার সাইমন হার্মারের বোলিংয়ে তিনবার আউট হয়েছিলেন জুরেল। শ্রীলঙ্কায় প্রস্তুতি ম্যাচেও উইকেট দিয়েছেন অফস্পিনে। ফলে সরফরাজের নাম ভাসছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে চার ইনিংসে ব্যর্থতার নিরিখে দল থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার কলম্বো থেকে গল পৌঁছাবে ভারত। ১৫ তারিখ, শনিবার শুরু প্রথম টেস্ট। তার আগে তিনটি প্র্যাকটিস সেশন পাবেন গৌতম গম্ভীরের ছাত্ররা।