মোহন বাগান- ৬ : সিআইএসএফ- ০
মোহন বাগান- ৬ : সিআইএসএফ- ০
সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: মর্যাদার ডার্বিতেই ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্ট বেঙ্গলের জাল কাঁপিয়ে বুঝিয়েছিলেন, তিনি হারিয়ে যাননি। চোট আর টিমে সুস্থ প্রতিযোগিতার জেরে গতবার বেঞ্চেই বেশিরভাগ সময় কাটাতে হয়েছিল তাঁকে। তবে নতুন মরশুমে গ্রিক কোচ পানাজিওটিসের প্রশিক্ষণে প্রথম একাদশে নিয়মিত সুযোগ পেয়ে নিজেকে মেলে ধরছেন সাহাল আবদুল সামাদ। সোমবার সিআইএসএফ প্রটেক্টরের বিরুদ্ধে ম্যাচের ৩৮ মিনিটের মধ্যেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলেন এই কেরালাইট মিডফিল্ডার। সেই সুবাদে ডুরান্ড কাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ৬-০ ব্যবধানে জিতে নক-আউট পর্বের প্রস্তুতি সেরে নিল মোহন বাগান। সাহাল ছাড়াও জাল কাঁপান মানবীর, ম্যাকলারেন এবং অভিষেক সিং। টানা তিন ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই শেষ আটে পৌঁছাল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। স্বাভাবিকভাবে দলের পারফরম্যান্সে খুশি কোচ পানোস। তিনি বলেন, ‘ছেলেরা প্রতি ম্যাচেই উন্নতি করছে। অবশ্য আরও বড়ো ব্যবধানে ম্যাচটা জিততে পারতাম। সামনে নক-আউটের লড়াই। তার আগে এই জায়গায় নজর দিতে হবে।’
সপ্তাহের প্রথম দিন। তার উপর বিকেল চারটে থেকে ম্যাচ। তা সত্ত্বেও এদিন কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে হাজির ছিলেন প্রায় হাজার পাঁচেক মোহন বাগান সমর্থক। সকলেই সবুজ-মেরুন জার্সিতে মিগুয়েলের অভিষেকের সাক্ষী থাকতে চেয়েছিলেন। তবে সেই অপেক্ষা আরও কিছুটা বাড়ল। এদিন বেঞ্চে থাকলেও মাঠে নামা হয়নি ব্রাজিলিয়ান মিডিওর। তবে সাহাল সমর্থকদের হতাশ করলেন না। গত ম্যাচে একের পর এক সুযোগ নষ্টের প্রায়শ্চিত্ত করলেন এদিন। ১৭ মিনিটে লিস্টনের সেন্টার থেকে সহজেই জাল কাঁপান তিনি (১-০)। পরের মিনিটে ড্রাজিচের পাস থেকে ব্যবধান বাড়ান এই কেরালাইট (২-০)। ২৪ মিনিটে অভিষেক সিংয়ের সাজিয়ে দেওয়া বল ধরে ৩-০ করেন মনবীর। আর ৩৭ মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একক দক্ষতায় দুরন্ত লক্ষ্যভেদে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাহাল (৪-০)। হ্যাটট্রিক স্ত্রীকে উৎসর্গ করেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একসঙ্গে চারটি পরিবর্তন আনেন বাগান কোচ। এই পর্বে গোল মিসের প্রদর্শনীতে মাতেন মনবীর। প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে টানা দু’ম্যাচে হ্যাটট্রিক করতে পারতেন তিনি। কিছুটা বাধ্য হয়ে ৬১ মিনিটে তাঁর জায়গায় ম্যাকলারেনকে মাঠে নামান পানোস। সাত মিনিটের মধ্যেই স্কোরশটে নাম তোলেন অজি তারকা (৫-০)। আর ৭৩ মিনিটে প্রতিপক্ষের কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতেন অভিষেক সিং (৬-০)। ম্যাচের বাকি সময়ে দেখা গেল লিস্টনের গোল মিসের শো। না হলে গোলে সংখ্যা আরও বাড়তেই পারত। একাই হ্যাটট্রিক করতে পারতেন তিনি। এদিকে, ককরোচ আন্দোলনের প্রভাব দেখা গেল স্টেডিয়ামেও। প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে ব্যানার দেখা যায় মোহন বাগান গ্যালারিতে। যদিও পুলিশের আপত্তিতে তা সরাতে বাধ্য হন সমর্থকরা।
মোহন বাগান: জাহিদ, অভিষেক, মেহতাব, আলবার্তো (সাজি), শুভাশিস (আশিস), দীপক, অনিরুদ্ধ (সূর্যবংশী), ড্রাজিচ (কিয়ান), সাহাল, লিস্টন ও মনবীর (ম্যাকলারেন)।