সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ। উত্তম শতবর্ষে কলকাতার একটি প্রদর্শশালায় রাইকমল, ইন্দ্রাণী, মরুতীর্থ হিংলাজ, চিড়িয়াখানা সিনেমার পোস্টার পাঠাল বারুইপুরের সরদার পরিবার। তারা পাঠাল কারণ, তাদের কাছে উত্তমের বহু সিনেমার হাতে আঁকা পোস্টার, বুকলেট, গানের বই ইত্যাদি স্বযত্নে রক্ষিত আছে। বারুইপুরের শিখরবালি দু’নম্বর পঞ্চায়েতের কুন্দরালিতে বাড়ি উজ্জ্বল সরদারদের। তাঁরা উত্তমকুমারকে ভালোবেসে দীর্ঘদিন ধরে মহানায়কের সিনেমার জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন। উজ্জ্বলবাবু গবেষণা করেন। তাঁর বাড়িতে সযত্নে রাখা উত্তম অভিনীত অমানুষ, ইন্দ্রাণী, সাগরিকা, সপ্তপদী, একটি রাত, সোনার খাঁচা, সাহেব বিবি গোলাম, রাইকমল, মরুতীর্থ হিংলাজ সিনেমার পোস্টার। সব সে সময় হাতে আঁকা। ১৯৫৫ সালের সিনেমা রাইকমলের বহু দুষ্প্রাপ্য পোস্টার আছে। যা কয়েকবছর ধরে সংগ্রহ করে চলেছেন উজ্জ্বলবাবু। সেগুলি বাঁধিয়ে রেখেছেন। উজ্জ্বলবাবুর স্ত্রী যোগমায়াদেবী ও দিদিমা ৭২ বছরের উর্মিলাদেবী পোস্টারের যত্ন নেন। হাতে আঁকা সিনেমার পোস্টারই শুধু নয়, সযত্নে ফাইলে করে রাখেন উত্তম অভিনীত সিনেমার ৫০ পয়সার শতাধিক বই এবং গানের বই। উজ্জ্বলবাবু বলেন, ‘উত্তমকুমার হল নস্টালজিয়া। মহানায়কের ক্রেজ ১০০ বছরে এসেও এতটুকু কমেনি।’ এই জেলায় শ্যুটিং হয়েছিল অমানুষ সিনেমার। সেটির সহ একাধিক সিনেমার পোস্টার যত্ন করে রেখেছেন তাঁরা। উত্তম প্রযোজিত ও পরিচালিত ছবির পোস্টারও রেখেছেন আলাদা করে। এছাড়া সংগ্রহে রাখেন বুকলেট ও লবি কার্ড। লবি কার্ড হল সিনেমার টিকিটের উপরের স্টিল ছবি। এগুলির অনেকগুলিই এখন দুষ্প্রাপ্য। এছাড়া যে সাতটি ছবি ফ্লপ হয়েছিল উত্তমের সেগুলিরও বুকলেট আছে। সরদার পরিবার নিয়মিত উত্তম চর্চা করে। যোগমায়াদেবী ও উর্মিলাদেবী নরম কাপড় দিয়ে মুছে রাখেন পোস্টার। যোগমায়াদেবী বলেন, ‘কলকাতায় একটি প্রদর্শশালায় সিনেমার পোস্টার পাঠানো হয়েছে। উত্তমকুমার আমাদের মনে আছেন। তাঁর স্মৃতি সযত্নে রাখা বাড়িতে।’



