


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: দলের হুগলি সাংগঠনিক জেলায় মাত্র একটি কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। প্রথম তালিকায় এই সাংগঠনিক জেলার সপ্তগ্রাম আসনে পদ্মপার্টি প্রার্থী করেছে স্বরাজ ঘোষকে। তাঁর নাম প্রকাশ্যে আসতেই দলের অন্দরে ক্ষোভ জমতে শুরু করেছে। দলের অন্দরমহল সূত্রে জানা গিয়েছে, যে কোনও সময় ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। গত নির্বাচনের পরে এবারেও সপ্তগ্রামে দলবদলুকেই প্রার্থী করেছে শীর্ষ নেতৃত্ব। তাৎপর্যপূর্ণ এই যে, গত নির্বাচনের যিনি প্রার্থী হয়েছিলেন, তিনি সদ্য পুরানো দল তৃণমূলে ফিরে গিয়েছেন। সেই ক্ষত এখনও দগদগে। তার উপরে তৃণমূল থেকে বিজেপি’তে আসা স্বরাজবাবুকে বিজেপি প্রার্থী করায় কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে লেগেছে। বিজেপির সোমবারের প্রার্থী তালিকায় আরামবাগের চারটি আসনের সঙ্গে তারকেশ্বর ও সপ্তগ্রামের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। সাংগঠনিক হিসাব অনুসারে আরামবাগ জেলার সমস্ত প্রার্থী ঘোষিত হয়েছে। স্বরাজবাবুকে নিয়ে চাপা ক্ষোভের মধ্যে দলের ওই সিদ্ধান্তকে ঘিরে অসন্তোষের চড়া সুর শোনা যাচ্ছে। কর্মীদের একাংশের দাবি, আরামবাগের জেতা আসনগুলিতে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাকিরা তো ‘জামাই আদর’ করা প্রার্থী। তাঁদের নাম প্রথম তালিকায় রাখতে হবে কেন? সপ্তগ্রাম বিধানসভার এক বিজেপি নেতা বলেন, স্বরাজ ঘোষ প্রয়াত মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে এসেছিলেন। পরে টিকিট না পেয়ে ফের তৃণমূলে চলে যান। আবার ২০২৪ সালে তিনি মধুর লোভে বিজেপি’তে এসেছেন। কর্মীদের আবেগের কথা বিচার না করে ওই ব্যক্তিকে প্রার্থী করা হয়েছে। এনিয়ে নীচুতলায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যে কোনও সময় বিদ্রোহ হবে। যদিও সেসব কথা উড়িয়ে দিয়েছেন দলের হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বিজেপি শৃঙ্খলাবদ্ধ দল। সকলেই জানেন, প্রার্থী নির্বাচন কেমন করে হয়। তাই ক্ষোভ-বিক্ষোভের আজগুবি গল্প নিয়ে আমরা ভাবছি না। দ্রুত প্রচারে নামা হবে। অন্যদিকে, স্বরাজবাবু বলেন, আমি দলের একনিষ্ঠ কর্মী হয়ে থাকতে চাই। সবাইকে নিয়ে সপ্তগ্রামে পদ্ম ফোটাবই।
এবার প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হতেই পদ্মপার্টির নীচুতলার কর্মীরা দু’টি প্রশ্ন বারবার তুলেছিলেন। প্রথমত, স্থানীয় প্রার্থী ও দ্বিতীয়ত, দলবদলুদের আগে দলের বিশ্বস্তদের গুরুত্ব দেওয়া। তাসত্ত্বেও দলের প্রথম তালিকায় একজন দলবদলুর নাম দেখে স্বভাবতই ক্ষোভের বলয় তৈরি হয়েছে হুগলিতে। উল্লেখ্য, সপ্তগ্রামে গত নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন দেবব্রত বিশ্বাস। তিনি সদ্য তৃণমূলে ফিরেছেন। বিজেপিতে থাকাকালীন তাঁকে জামাই আদর করা নিয়ে বিস্তর ক্ষোভ-বিক্ষোভ ছিল। তিনি দল ছাড়ার পরে সেই ক্ষোভ আরও তুঙ্গে ওঠে। সেই আগুন নিভে যাওয়ার আগেই ফের ওই আসনে দলবদলু প্রার্থী দেওয়ায় অসন্তোষ বাড়তে শুরু করেছে। নির্বাচনের শুরুতেই বিপদের গন্ধ পাচ্ছে পদ্মপার্টি।