Bartaman Logo
২৯ জুলাই, ২০২৬
Advertisement
বর্তমান / কলকাতা

টোলের ১৮ বছর ধরে জমে থাকা পরীক্ষা নেবে সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়

রাজ্যের ধুঁকতে থাকা চতুষ্পাঠী টোলগুলিকে খানিক অক্সিজেন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৭-০৮ সাল থেকে টোলগুলিতে কোনও পরীক্ষাই হয়নি।

টোলের ১৮ বছর ধরে জমে থাকা পরীক্ষা নেবে সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের ধুঁকতে থাকা চতুষ্পাঠী টোলগুলিকে খানিক অক্সিজেন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৭-০৮ সাল থেকে টোলগুলিতে কোনও পরীক্ষাই হয়নি। একযোগে এবার সেই পরীক্ষা নিতে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয়। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই সময়ে টোলগুলিতে পড়াশোনা করেছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার ছাত্র। এর মধ্যে যাঁরা পরীক্ষায় বসতে ইচ্ছুক, তাঁদের থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

টোলের ক্ষেত্রে মাধ্যমিক সমতুল কোর্সটি হল অদ্য, উচ্চ মাধ্যমিককে বলা হয় মধ্য এবং গ্র্যাজুয়েশন সমতুল কোর্সটিকে বলে উপাধি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার মণিশঙ্কর মণ্ডল বলেন, ‘বাম আমল থেকেই টোলশিক্ষা খাতে ধীরে ধীরে অনুদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিয়োগও নেই। মুখ্যমন্ত্রী টোলগুলিকে সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এনে সেগুলি পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলেছিলেন। সব জটিলতা কাটিয়ে এ বছরই টোলগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসেছে। তাই পরীক্ষাগুলির নিয়মিতকরণ প্রয়োজন।’ তিনি জানান, এই কোর্সগুলির পরে সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রেগুলার কোর্সেও ভর্তি হতে পারেন ছাত্ররা। এটা অনেকেই জানেন না।
এই মুহূর্তে রাজ্যে কম-বেশি সাড়ে তিনশো টোল রয়েছে। এর মধ্যে চারটি সরকারি। দু’টি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বাকিগুলি ডিএ প্রাপক। শিক্ষক সংখ্যাও এখন মেরেকেটে ৪০০। তবে পড়ুয়া একেবারেই নেই। যে শিক্ষকরা রয়েছেন, তাঁদের বেতন হোক বা ডিএ, শুধু শুধুই দিয়ে যেতে হচ্ছে সরকারকে। তাই এগুলি জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সমস্যাও কম নয়। সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতের কোনও স্থায়ী শিক্ষকই এই মুহূর্তে নেই। দু’জনকে নিয়োগ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজন কেন্দ্রীয় সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিপুরা ক্যাম্পাসে চাকরি পেয়ে চলে গিয়েছেন।
 অন্য শিক্ষককে উচ্চশিক্ষা সংসদের আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরের পঠনপাঠন সামলাচ্ছেন অস্থায়ী শিক্ষকরা। এমনকি, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও শিক্ষকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু হয়নি। বঙ্গীয় সংস্কৃত পরিষদ ভবনটিও হাতছাড়া হয়েছে হিন্দু স্কুলের কাছে। আগে এই পরিষদের দায়িত্বেই ছিল টোলগুলি। ফলে নিজস্ব হাজারও সমস্যার মধ্যে টোলগুলির উন্নতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কতটা কাজ করতে পারে, সেটাই দেখার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ