


নিজস্ব প্রতিনিধি, আমেদাবাদ: সকাল ঠিক ছ’টায় বন্ধ হবে দরজা। দিনভর চলবে প্রার্থনা। সন্ধ্যা থেকে চোখ থাকবে মোবাইলের স্ক্রিনে। যত গুরুত্বপূর্ণ ফোনই আসুক, ধরার প্রশ্ন নেই। রবিবার এটাই হতে চলেছে স্যামসন বিশ্বনাথের রুটিন। বাবার এই রুটিনেই তো টানা দু’ম্যাচে দলের পরিত্রাতা ছেলে!
প্রার্থনা অবশ্য প্রতিদিনের সঙ্গী সঞ্জু স্যামসনের বাবার। তবে উপরওয়ালার কাছে নিজের জন্য নয়, জগতের কল্যাণ চেয়ে এসেছেন নিয়মিতভাবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড ম্যাচের দুটো দিন সেজন্যই ব্যতিক্রমী। ছেলের মঙ্গলকামনাতেই ছিলেন ঘরবন্দি। বাকি দুনিয়ার যেন অস্তিত্বই নেই। বাড়িতে আত্মীয়রা উপস্থিত। তাঁদের ডাকাডাকি কাজে আসেনি। এমনকী বড় ছেলের মেয়ে, স্নেহের নাতনি পর্যন্ত ধাক্কাধাক্কি করেছে দরজায়। কিন্তু তিনি বেরোননি। ড্রয়িং-রুমে সবার সঙ্গে বসে টিভিতে খেলা দেখানো যায়নি তাঁকে। সিনিয়র স্যামসন মোবাইলে বলেই ফেললেন, ‘বড্ড বদনাম হয়ে যাচ্ছিল ছেলেটার। সহ্য করতে পারছিলাম না। একটাই প্রার্থনা ছিল, ও যেন ব্যর্থতা ঝেড়ে নিজেকে মেলে ধরতে পারে। ঈশ্বর সেই প্রার্থনা শুনেছেন। এখন একটাই চাওয়া, ফাইনালেও যেন ছন্দটা থাকে।’
ইডেনে জয়সূচক শটের পর পিচে বসে বুকে ক্রস এঁকেছিলেন সঞ্জু। ওয়াংখেড়েতে আউট হয়ে ফেরার সময় মাঠেই জড়িয়ে ধরেছিলেন ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার। গর্বিত বাবা তা দেখে নিঃশব্দে কেঁদেছেন। সুখের অভিঘাতেও যে কেঁদে ওঠে হৃদয়! যন্ত্রণাটা উগরেই দিলেন তিনি, ‘এতদিন অনেক অপমান হজম করতে হয়েছিল। ভাগ্যিস, সঞ্জু সোশ্যাল মিডিয়া দেখে না। না হলে তো সমালোচনা, বিদ্রুপে পাগল হয়ে যেত। ছোট থেকেই ও ক্রিকেটঅন্ত প্রাণ। এখনও প্রচুর পরিশ্রম করে। ভারত ফাইনালে ওঠার পর তাই চোখের জল আটকাতে পারিনি। আর নিশ্চয় ওকে বাদ পড়তে হবে না!’
ব্যর্থতার কানাগলি থেকে কোন মন্ত্রে সাফল্যের রাজপথে ফিরলেন সঞ্জু? সেই নেপথ্য কাহিনি শোনা গেল বন্ধু প্রশান্ত পদ্মনাভনের মুখে। প্রথম এগারোর দরজা বন্ধ হওয়ার পর তাঁকে তিরবনন্তপুরমের মার ইভানিস কলেজে ডেকেছিলেন সঞ্জু। আইপিএল খেলা বাঁ-হাতি স্পিনার প্রশান্তর প্রতি তাঁর নির্দেশ ছিল একনাগাড়ে গুড লেংথ স্পটে বল রাখার। পুরো প্র্যাকটিসটাই চলত টেনিস বলে। উচ্ছ্বসিত প্রশান্ত শোনালেন, ‘ও আমাকে চেট্টা বলে ডাকে, যার অর্থ ভাই। বিশ্বকাপের আগে বলেছিল, চেট্টা, এভাবে বল করতে থাক। সেই পরিশ্রমের কথা মনে পড়ছে এখন। চাপের মুখেও শান্ত থাকতে পারে। মন খারাপ থাকলে আমাদের সঙ্গে আড্ডা দিতে ভালোবাসে। সেটাই ওর অক্সিজেন।’
বাবার আকুল প্রার্থনা। বন্ধুদের বিশ্বাস। সঞ্জুকে ঘিরে থাকছে এই সুরক্ষাবলয়ও!