Bartaman Logo
২৯ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাফাইকর্মীদের কর্মবিরতির ডাক দাঁইহাটের রাস্তায় জঞ্জালের পাহাড়

বেতন না পেয়ে কর্মবিরতি শুরু করেছেন দাঁইহাট পুরসভার সাফাইকর্মীরা।

সাফাইকর্মীদের কর্মবিরতির ডাক দাঁইহাটের রাস্তায় জঞ্জালের পাহাড়
  • ২৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, কাটোয়া: বেতন না পেয়ে কর্মবিরতি শুরু করেছেন দাঁইহাট পুরসভার সাফাইকর্মীরা। তার ফলে শহরের রাস্তার দু’ধারে বর্জ্যের স্তূপ জমছে। তা থেকে যেমন প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, তেমনি মশার উৎপাত বাড়ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে শহরের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

Advertisement

এবিষয়ে দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যান সমর সাহা বলেন, সাফাইকর্মীদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সেকারণে তাঁরা কর্মবিরতি জারি রেখেছেন। কেউ কাজে যোগ দিচ্ছেন না। এগজিকিউটিভ অফিসার পুরো বিষয়টি দেখছেন।
দাঁইহাট শহরের ১৪টি ওয়ার্ডে প্রায় সাড়ে ছ’হাজার হোল্ডিং নম্বরে আবর্জনা রাখার জন্য দু’টি করে বালতি দেওয়া হয়েছে। একটিতে জৈব বর্জ্য, অপরটিতে প্লাস্টিক রাখাই নিয়ম। নিয়মিত বাড়ি বাড়ি ঘুরে সেই বর্জ্য সংগ্রহ, রাস্তা ও বাজার এলাকা আবর্জনামুক্ত রাখার কাজ করেন পুরসভার ১৬০জন সাফাইকর্মী। কিন্তু মে মাস শেষ হতে চললেও তাঁরা গত এপ্রিল মাসের বেতন পাননি। চেয়ারম্যানকে জানিয়েও সুরাহা মেলেনি। সেকারণে তাঁরা সাতদিন ধরে কাজে যোগ দিচ্ছেন না। ফলে শহরের রাস্তাঘাটে বর্জ্য জমে থাকছে। বাড়িতে রাখা বালতিতে বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে গেলে অনেকেই তা রাস্তাঘাটে, নালায় ফেলে দিচ্ছেন। আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গাতেও বর্জ্য উপচে পড়ছে। তা পরিষ্কার করা হচ্ছে না।
কাঁসারিপাড়া, সুভাষ রোড শীতলাতলা, ফেরিঘাট মোড়, বাজার, চালবাজার সহ শহরের ১৪টি জায়গায় আবর্জনা জমে রয়েছে। সেসব কুকুরে টানাটানি করে রাস্তায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। দুর্গন্ধে পথচারীদের নাকে রুমাল চাপা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
শহরের ফেরিঘাট রোডের সাইকেল ব্যবসায়ী বাবাই ভট্টাচার্য বলেন, পুরসভার সাফাইকর্মীরা সাতদিন ধরে আসছে না। আমার দোকানের সামনে আবর্জনার স্তূপ জমে আছে। ফলে ক্রেতারা দোকানে ঢুকতে পারছেন না।
দাঁইহাটের বাসিন্দা কেশব দে, রবীন্দ্রনাথ সাহা, গোপাল পাল বলেন, বাজারে আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে না। ভাউসিং এলাকায় একটা কুকুরের মৃতদেহ পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সেটা কেউ ফেলছে না। শহরের ফেরিঘাট রোড, বকুলতলা রোডের দু’ধারে বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। আর অল্প বৃষ্টি হলেই সেই আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকে।
শহরের অনেকেই বলছেন, পুরসভার অচলাবস্থার জন্য কর্তৃপক্ষই দায়ী। নিজস্ব তহবিলে টাকা নেই। সাফাইকর্মীদের বেতন পর্যন্ত দিতে পারছে না। এভাবে কি পুরসভা চলতে পারে? শহরের মানুষ কীভাবে ভালো থাকবেন, সেবিষয়ে কোনো চিন্তাভাবনা পুর কর্তৃপক্ষের আছে বলে মনে হয় না। তাঁদের অভিযোগ, পুরসভার টাকা তছরূপ হয়েছে। তাই অডিট করিয়ে তদন্ত হোক। সেইসঙ্গে শহরে আবর্জনার সমস্যা আশু মেটানোর দাবিও তুলেছেন তাঁরা।

সম্পর্কিত সংবাদ