Bartaman Logo
৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবদ্বীপে ভবঘুরেদের জন্য তৈরি আবাসনে থাকছেন সাফাইকর্মীরা

নবদ্বীপের 'মমতালয়' আবাসনে ভবঘুরেদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না। সাফাইকর্মীরা থাকছেন। স্থানীয়দের ক্ষোভ, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি। বিস্তারিত পড়ুন।

নবদ্বীপে ভবঘুরেদের জন্য তৈরি আবাসনে থাকছেন সাফাইকর্মীরা
  • ৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: প্রায় একদশক আগে ভবঘুরে ও অসহায় মানুষকে আশ্রয় দিতে নবদ্বীপ পুরসভা চারতলা আবাসন তৈরি করেছিল। নাম দিয়েছিল ‘মমতালয়’। ২০১৭সালের আগস্টে তৎকালীন বিধায়ক পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা এর উদ্বোধন করেন। কিন্তু এখন সেখানে ভবঘুরেদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না। ভবনের চারপাশ জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিভিন্ন পরিকাঠামো নষ্ট হতে বসেছে। কয়েকজন সাফাইকর্মী ভবনের চারতলায় পরিবার নিয়ে থাকছেন। আবাসনটির এই হালে নবদ্বীপে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। অসহায় মানুষের স্বার্থে তাড়াতাড়ি সেটি চালু করার দাবি উঠেছে। নবদ্বীপ পুরসভার ১৭নম্বর ওয়ার্ডের দেয়ারাপাড়া ঘাটের কাছে ভাগীরথী নদী-তীরবর্তী নির্জন এলাকায় এই আবাসন তৈরি হয়েছিল। ঠিক ছিল, এখানে ভবঘুরে ও আশ্রয়হীন মানুষ নিরাপদে থাকতে পারবেন। তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর রেখে ভবনের ভিতরে বিনোদনের বিভিন্ন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। সেই উদ্দেশ্যে ভবনে দোলনা সহ নানা পরিকাঠামো রাখা হয়। প্রায় একবছর ধরে ভবনের চারতলায় কয়েকজন সাফাইকর্মী পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেছেন। কিন্তু ভবঘুরেরা এখানে থাকতে পারছেন না। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি টাকায় নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ ভবনটি সঠিক ব্যবহারের অভাবে দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাঁদের দাবি, নতুন সরকার অবিলম্বে ভবনটি চালু করার বিষয়ে উদ্যোগী হোক। যাতে আশ্রয়হীন মানুষ এর সুবিধা পেতে পারেন।

Advertisement

স্থানীয় পালপাড়ার বাসিন্দা বকুল পাল ও দীপিকা পাল বলেন, এই ভবনটা ফেলে না রেখে বৃদ্ধাশ্রম করলেও চলত। গঙ্গার ধারে এই পরিবেশটা খুবই ভালো। সমাজসেবী সংস্থার সদস্য রাজীব কংসবণিক বলেন, উদ্বোধনের পর প্রথমদিকে দু’চারজন ভবঘুরেকে আশ্রয় দেওয়া হলেও লকডাউনের পর থেকে ভবনটি একপ্রকার ভাড়াবাড়িতে পরিণত হয়েছে। ২০২২সালে এনিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ওখানে আর ভবঘুরেদের রাখা হয় না। কারণ জানতে চাইলেও সদুত্তর দেননি। এখন ভবনটি একশ্রেণির মানুষ বসতবাড়ি বানিয়ে ফেলেছে। সন্ধ্যার পর সেখানে যুবক-যুবতীদের আড্ডা, নেশার আসর চলছে।
বিজেপির নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা ওদের দলনেত্রীকে খুশি করতে ওই রকম নামকরণ করেছিল। প্রকৃতপক্ষে ওখানে কিছু নেশাগ্রস্ত মানুষের আনাগোনা লেগে আছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এর প্রতিবাদ করেছি। সেখানে ভবঘুরেদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে কথা বলব। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ