স্বরলিপি ভট্টাচার্য: ‘সম্পূর্ণা’। এটাই এখন অভিনেত্রী সন্দীপ্তা সেনের নাম। বিশেষণও কি বলা চলে? প্রশ্ন শুনে হেসে ফেললেন। চণ্ডীগড়ের শ্যুটিং সেট থেকে বললেন, ‘আমার প্রথম হিন্দি কাজ ‘সম্পূর্ণা’। এত বছর দর্শক যেভাবে ভালোবেসেছেন, আশা করি এবারও ব্যতিক্রম হবে না।’
সন্দীপ্তা অভিনীত ‘নষ্টনীড়’ ওয়েব সিরিজের হিন্দি হল ‘সম্পূর্ণা’। এটি ১০০-১২০ এপিসোডের একটি সিরিজ। অভিনেত্রীর কথায়, ‘নষ্টনীড়-এর দুটো সিজন আমিই করেছিলাম। কিন্তু এখানে পর্ব সংখ্যা অনেক বেশি। বেশ কিছু নতুন চরিত্র যোগ হয়েছে। গল্পটা ১২০ এপিসোডের মধ্যেই শেষ করবেন নির্মাতারা। নাহলে গল্পের মাধুর্য নষ্ট হবে।’
টানা হিন্দিতে সংলাপ বলছেন সন্দীপ্তা। সহ অভিনেতারা পাঞ্জাব অথবা মুম্বইয়ের শিল্পী। বাংলা বলার সুযোগ কম। ‘আমি খুব মিশুকে। সকলের সঙ্গেই ভালো আলাপ হয়ে গিয়েছে’, শট দেওয়ার ফাঁকে বললেন অভিনেত্রী। কতটা চ্যালেঞ্জিং এই প্রজেক্ট? সন্দীপ্তার উত্তর, ‘আমার ছোটবেলা ভবানীপুরে কেটেছিল। প্রচুর অবাঙালি বন্ধু রয়েছে। তবে প্রতিদিন কথা বলা একটা আলাদা অভ্যেস। হিন্দির ব্যাকরণ বাংলা বা ইংরেজির থেকে আলাদা। পরিচালক সবসময় গাইড করছেন। প্রজেক্ট কনফার্ম হওয়ার পাঁচদিনের মধ্যে চণ্ডীগড় চলে এসেছি। শিক্ষকের কাছে হিন্দি শিখে কাজ শুরু করব, সে সুযোগ আমার হয়নি। ফলে এটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা বাংলাতে ভাবি, কথা বলি। এখানে হিন্দিতে ভেবে, সংলাপ বলতে হচ্ছে। তবে হিন্দি আমার একেবারে খারাপ, তা নয়।’
বাংলার বাইরে কাজ করতে গিয়ে প্রযুক্তিগত কোনও পার্থক্য চোখে পড়েনি সন্দীপ্তার। হিন্দিতে সুযোগ দেরি করে এল কি? অভিনেত্রীর উত্তর, ‘২০১০ থেকে প্রচুর হিন্দি প্রজেক্টের অফার পেয়েছি। একতা কাপুরের কামব্যাক প্রজেক্ট ছিল ‘তেরে লিয়ে’। সেখানে মুখ্য চরিত্রের অফার পেয়েছিলাম। স্নাতকোত্তর করব বলে কাজটা সেসময় করিনি। আবার কখনও অন্য প্রজেক্টে ব্যস্ত ছিলাম বলে কাজ ছেড়ে দিয়েছি। এটা মেগা সিরিয়াল নয়। তাই মনে হল, প্রথম হিন্দি কাজ করার এটাই সঠিক সময়।’
আগামী নভেম্বর পর্যন্ত চণ্ডীগড়েই থাকবেন সন্দীপ্তা। পুজোতে কলকাতা ফিরবেন না? ‘সপ্তমী পর্যন্ত কলকাতায় থাকব। কলকাতাকে সত্যি খুব মিস করছি। কিন্তু কাজ তো করতেই হবে’, পেশাদার অভিনেত্রী লুকিয়ে নিলেন মনখারাপ।