


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সিন্ডিকেটরাজ বন্ধ হলে বালির দাম কমবে। এমনটাই মনে করছেন পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, আগে ঘাট থেকে বালিভরতি ট্রাক বা ডাম্পার বের হলেই একাধিক জায়গায় সিন্ডিকেটের লোকজনকে টাকা দিতে হত। ফলে ব্যবসায়ীরা বালির দাম বাড়াতে বাধ্য হতেন। সিন্ডিকেটরাজ খতম হলে বালির দাম অনেকটাই কমে যাবে। এছাড়া প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কোথাও বেআইনি বালিঘাট চলতে দেওয়া হবে না। এতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে পাঁচ জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে এবিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
পূর্ব বর্ধমান কৃষিনির্ভর জেলা। এই জেলার চাষিরা যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেই বিষয়টিও বৈঠকে দেখতে বলা হয়েছে। সেচ ব্যবস্থার উন্নতি কীভাবে করা যায়, সেবিষয়েও রাজ্য সরকার চিন্তাভাবনা করছে। এক জনপ্রতিনিধি বলেন, পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রচুর ধান উৎপাদন হয়। অতীতে ধান কেনা নিয়ে বহু দুর্নীতি হয়েছে। অনেক চাষি ধান বিক্রি করতে পারেননি। ফড়েরা সরকারি শিবিরে ধান বিক্রি করে ফায়দা লুটেছে। আগামী দিনে সেই প্রথা চলবে না। সরকারি শিবিরে শুধু চাষিরাই ধান বিক্রি করবেন। কোথাও আধিকারিকরা অনিয়মের চেষ্টা করলে তাঁদেরও রেহাই দেওয়া হবে না। এক্ষেত্রেও সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল। তারাই পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করত। সেই সিন্ডিকেটও ভেঙে দেওয়া হবে।
পূর্ব বর্ধমানের বেশিরভাগ পঞ্চায়েত বন্ধ হয়ে রয়েছে। প্রধান, উপপ্রধানরা আসছেন না। প্রশাসন সূত্রে খবর, পুরসভা বা পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিরা না থাকলে সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পূর্বতন সরকারের আমলে যে সমস্ত সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম হয়েছে, সেগুলি আলাদাভাবে নোট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি টাকা যারা নয়ছয় করেছে, তাদের কোনোভাবে ছাড়া হবে না বলে বৈঠকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এক জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, কোথাও যাতে উন্নয়নমূলক কাজ থমকে না যায়, তা দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছেন। পঞ্চায়েত হোক বা পুরসভা, সব জায়গাতেই সমস্ত প্রকল্পে কাজ শুরু হবে। আর সেসব ঠিকমতো হচ্ছে কি না-তার উপর নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে।