নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: বালি পাচারের করিডর হয়ে উঠেছে বেলপাহাড়ী। রাত নামলেই জঙ্গল জেগে উঠছে। ঝাড়খণ্ড সীমানা দিয়ে বালি বোঝাই লরি, ডাম্পার বেলপাহাড়ীর কাঁকড়াঝোড়, আমলাশোল দিয়ে ঢুকছে। বালির গাড়ি সেখান থেকে ময়ূরঝর্না, বগডোবা ও চাকাডোবা হয়ে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার দিকে যাচ্ছে। মধ্যরাতে বালি গাড়ি চলাচলের জেরে আদিবাসী গ্ৰামগুলি কেঁপে উঠছে। আন্তঃরাজ্য বালি পাচারের কারবার কাদের প্রশ্রয়ে চলছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বাংলায় ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সুবর্ণরেখা নদী থেকে তোলা বালির চাহিদা তুঙ্গে। কারণ, সেই বালির দানা মোটা। ধুলো ও মাটির মিশ্রণ কম। নির্মাণ কাজে এই বালির কদর সর্বত্র। সেই তুলনায় ঝাড়গ্রামের সুবর্ণরেখা ও কংসাবতী নদী থেকে তোলা বালির মান খারাপ। যার জেরে ঝাড়খণ্ডের বালির চাহিদা বেড়ে গিয়েছে। গোপীবল্লভপুর, নয়াগ্ৰাম সীমানায় পুলিশের ধরপাকড় চলছে। আন্তঃরাজ্য বালি মাফিয়ারা বালি পাচারের জন্য বেলপাহাড়ী ও জামবনীর জঙ্গলের রাস্তাগুলি বেছে নিচ্ছে। বেলপাহাড়ীতে জনবসতি কম। জঙ্গলের রাস্তায় নজরদারিও সেভাবে নেই। সন্ধের পর রাস্তায় মানুষের চলাচল নেই বললেই চলে। বালি কারবারিরা যার সুযোগ পুরোদস্তুর নিচ্ছে। সূত্রের খবর, রাত নামলেই ঝাড়খণ্ড থেকে বরাজুড়ি, সরস্বতী, হুড়লুং, গুড়াবাড়ি, বাঁকশোল, ঘটিডোবা ও জামবাদ হয়ে বালি বোঝাই ডাম্পার আমলাশোলে ঢুকছে। স্থানীয় গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বালির ডাম্পার চলায় গ্ৰামের রাস্তার পিচ উঠে যাচ্ছে। কংক্রিটের রাস্তা বসে যাচ্ছে। গ্ৰামীণ এলাকার রাস্তা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দিনকয়েক আগেই রাস্তা ধসে বালি বোঝাই একটি ডাম্পার আটকে যায়। বালি পাচারের বিষয়টি সামনে চলে আসে। ঝাড়খণ্ড থেকে বালি বোঝাই ডাম্পারগুলি মাসখানেক ধরে আসা বন্ধ ছিল। গ্ৰামবাসীদের অভিযোগ, নতুন করে বালি পাচার শুরু হয়েছে। বেলপাহাড়ীর বগডোবা গ্ৰামের এক বাসিন্দা বলেন, রাতের দিকে বালি বোঝাই ডাম্পারগুলি চলাচল করছে। বালির গাড়ি যাওয়ার সময় বাড়িগুলি কেঁপে ওঠে। ঘুম ভেঙে যায়। মাঝে কিছুদিন বন্ধ ছিল। আবার শুরু হয়েছে। বাঁশপাহাড়ী গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান মমতা বারুই বলেন, বালি বোঝাই ডাম্পারের চলাচল চোখে পড়ছে। গাড়িগুলোর পার্মিট রয়েছে না বেআইনি, তা বোঝা সম্ভব নয়। বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডুও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, বেআইনি বালি পাচারে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে কড়া পদক্ষেপ জরুরি। বেলপাহাড়ী শুধু নয়, ঝাড়গ্রাম শহরের ভিতর দিয়ে বালি বোঝাই ডাম্পারের চলাচল বেড়ে গিয়েছে। শহরের বাসিন্দারা সমাজ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। ব্যস্ত সময়ে শহরের রাস্তায় বালি বোঝাই ডাম্পারগুলি কীভাবে চলছে, তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার মানব সিংলা বলেন, সীমানা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যারা পাচারে যুক্ত তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।