


সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: ‘কতক্ষণ বাকি? আরও ২৬ ঘণ্টা? কখন যে খেলা শুরুর ঘণ্টা বাজবে ইডেনে!’ বাঁ-কবজিতে বাঁধা ঘড়ি। চশমার ফাঁক দিয়ে সেদিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে মন্তব্য ড্যারেন স্যামির। ক্যারিবিয়ান কোচের শরীরী ভাষাতেই স্পষ্ট, মরণ-বাঁচনের ম্যাচের আগে কতটা চাপমুক্ত শিবির। জীবনকে হাসিঠাট্টার মধ্যে দিয়ে এভাবে উদযাপনই গ্যারি সোবার্স, ক্লাইভ লয়েড, ভিভ রিচার্ডসদের বৈশিষ্ট্য। যতই কুড়ি ওভারের কাপযুদ্ধের কার্যত কোয়ার্টার ফাইনালে নামতে হোক, বিপক্ষে হোম টিম ভারত থাকুক, গ্যালারির শব্দব্রহ্মের মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ থাক— ব্রায়ান লারার উত্তরসূরিরা একইরকম নিরুদ্বেগ। নাহলে ভরদুপুরে ফুটবল খেলার মাঝে এক সাপোর্ট স্টাফের মাথায় সবাই মিলে আঙুল দিয়ে তবলা বাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন!
তখন দুপুর সওয়া দুটো। সবেমাত্র দুলকি চালে প্র্যাকটিস শুরু হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। হঠাৎ নন্দনকানন জুড়ে শোনা গেল ‘ইয়াদ আ রহা হ্যায়...।’ নিঃসন্দেহে যা অসম্ভব প্রতীকী। ঠিক বছর দশেক আগে এখানেই টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে শেষ ওভারে চার ছক্কায় অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন কার্লোস ব্রেথওয়েট। সেদিনের বিশ্বজয়ী অধিনায়ক, অধুনা কোচ স্যামির তা মনে পড়তে বাধ্য। টিম মিটিংয়ের ভোকাল টনিকটাই হয়তো সেজন্য উঠে এল মিডিয়ার সামনে, ‘হিস্ট্রি রিপিটস ইটসেলফ। ২০১৬ সালেও আমরা ভারতকে হারিয়েছিলাম। তবে সেটা অন্য ভেন্যুতে হয়েছিল। এমন বড় আসরে এগতে হলে ভারতকে হারাতেই হবে। ছেলেদের বলব, দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের পরাজয় মন থেকে ঝেড়ে ফেলে মাঠে নামো। বি রেডি ফর ব্যাটল!’
অর্থাৎ, যতই খুনসুটি, রঙ্গ-রসিকতা, হাসি-ঠাট্টা আবহে থাক, গঙ্গাপাড়ে যুদ্ধক্ষেত্রেই নামছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম এগারোয় খেলোয়াড়রা নন, থাকছেন সৈনিকরা। কোচের গলায় বার কয়েক ‘সোলজার্স’ শব্দটা সেজন্যই ক্লাবহাউসের মিডিয়া সেন্টারে উপস্থিত শ’দুয়েকের কানে বাজল। নেটে শিমরন হেটমায়ারের পেল্লাই পেল্লাই ছক্কাগুলোতেও যুদ্ধজয়ের তাগিদ স্পষ্ট। বিশ্বজয়ের পরের দশ বছরে সেমি-ফাইনালেও ওঠেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেজন্যই হয়তো প্র্যাকটিসে এমন মরিয়া রোমারিও শেফার্ড, জেসন হোল্ডাররা।
পাওয়ার প্লে’তে স্পিনার এনে আক্রমণের ছক থাকছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। বরুণ চক্রবর্তীর রহস্যভেদ করার পরিকল্পনাও তৈরি। মারকাটারি ব্যাটিংয়ের সঙ্গে ফর্মে থাকা স্পিনার— রীতিমতো ব্যালান্সড দল। স্যামি বললেন, ‘আমাদের ১১জনই ডেঞ্জারম্যান। জিতলে বাইশ গজেই নাচানাচি শুরু করব।’ মিশন ইম্পসিবল নয়, ইডেনকে ‘মিশন পসিবল’ হিসেবেই দেখছেন ক্যারিবিয়ানরা!