


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ফের পথদুর্ঘটনা বিধাননগরে। অ্যাপ বাইকে চেপে বাড়ি ফেরার পথে ডাম্পারের ধাক্কায় মৃত্যু হল তরুণীর। বৃহস্পতিবার রাতে সল্টলেকে নবদিগন্ত ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় ওই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। জখম হয়েছেন অ্যাপ বাইক চালকও। পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ডাম্পারটি চলে যায়। এখনও আটক করা যায়নি। গ্রেপ্তার হয়নি চালক।
এই নিয়ে গত আড়াই মাসে বিধাননগর কমিশনারেটে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেড়ে দাঁড়াল ১১ জন! এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, মৃতার নাম রিম্পা ধাড়া। বয়স ২৯-৩০ বছর। হাওড়ার বি-গার্ডেনে তাঁর বাড়ি। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘাতক ডাম্পারটি চিহ্নিত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত আড়াই মাসে যে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিউটাউনে। এখানে মারা গিয়েছেন আটজন। বাকি ২ জন সল্টলেকে এবং একজন রাজারহাটে। রিম্পা ধাড়া সল্টলেকে সেক্টর ফাইভে একটি হোটেলে চাকরি করেন। কাজ সেরে তিনি একটি অ্যাপ বাইক বুক করেন বাড়ি ফেরার জন্য। সেক্টর ফাইভ থেকে নবদিগন্ত ফ্লাইওভার হয়ে চিংড়িঘাটার দিকে যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ চিংড়িঘাটামুখী অ্যাপ বাইকটি নবদিগন্ত ফ্লাইওভার থেকে নামছিল। ঠিক সেই সময় পিছন দিক থেকে একটি ডাম্পার এসে বাইকটিকে ধাক্কা দেয়। দু’জনেই ছিটকে পড়েন। তরুণীর ডাম্পারের চাকার তলায় পড়ে যান।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জনকে উদ্ধার করে। তারপর বিধাননগর মহকুমা আদালতে পাঠায়। চিকিৎসকরা তরুণীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান পাওয়া গিয়েছে। তিনি পুলিশের কাছে জানিয়েছে, একটি ডাম্পারটি পিছন থেকে এসে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর দ্রুত পালিয়ে যায়। অ্যাপ বাইক চালককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছে, ডাম্পার ধাক্কা মেরেছিল। তবে, দুর্ঘটনার পরই তিনি কার্যত অচেতন হয়ে যান। নম্বর প্লেট দেখতে পাননি। দুর্ঘটনার সময় ধরে আগে ও পরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। তারপরই এদিন সন্ধ্যায় ওই ডাম্পারটিকে চিহ্নিত করা হয়। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ডাম্পারটি চিহ্নিত করা হয়েছে। আটক করা হবে। চালকের খোঁজ চলছে।